• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন চালু করছে সরকার

সিম কার্ডসিসি ডেস্ক: মোবাইল গ্রাহকদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি (আঙ্গুলের ছাপ) চালু করছে সরকার। সিম নিবন্ধনের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ১ নভেম্বর থেকে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলকভাবে নিবন্ধন শুরু হবে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে চূড়ান্তভাবে শুরু হবে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন।’

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের সব মোবাইল অপারেটরদের শীর্ষ কর্মকর্তা, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আগামী ১ নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে মোবাইল অপারেটররা নিজেদের সার্ভিস কেন্দ্রে এ পদ্ধতি চালু করবে। গ্রাহকরাও চাইলে নিজ উদ্যোগে এখানে এসে নিজেদের সিমের নিবন্ধন করতে পারবেন। এমনকি কেউ চাইলে গ্রাহক হিসেবে তার নিবন্ধন সঠিক আছে কি না তা যাচাই-বাছাই করতে পারবেন।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর থেকে চূড়ান্তভাবে যখন বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে, তখন ফেক আইডি কিংবা একটি এনআইডির বিপরীতে থাকা অস্বাভাবিক সিমের গ্রাহকরা প্রাধান্য পাবেন। তারাই প্রথম নিজেদের সিমের নিবন্ধন করার সুযোগ পাবেন। সবাই যেন সঠিকভাবে সিম নিবন্ধন করতে পারি, এজন্য কর্মযজ্ঞে হাত নিয়েছি। এজন্য আমরা ক্যাম্পেইন করব। যাতে সবাই সচেতন হয়। নিজের সিম নিয়ে নিরাপদ থাকতে পারেন। আমরা সব গ্রাহককে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে চাই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তারানা হালিম বলেন, ‘বৈধভাবেই অনেকে একাধিক সিম ব্যবহার করছেন। তবে কয়টি সিম একজন ব্যবহার করতে পারবেন, তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা চাই, তারা যেন সব সিম সঠিকভাবে নিবন্ধন করেন। না হলে সিম বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

এক এনআইডি দিয়ে একাধিক সিম নিবন্ধনের জন্য মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (মোবাইল কোম্পানি) যৌক্তিক একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে যে, গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। আমরা এখন তাদের জন্য সেই সুযোগ করে দিচ্ছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এনআইডির তথ্যকোষ মোবাইল অপরাটেররা ব্যবহার করতে পারবেন। এজন্য এনআইডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মোবাইল কোম্পানিগুলোর এমওইউ সই হওয়ার কথা রয়েছে। সই হয়ে গেলে কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের এনআইডিতে একসেস করতে পারবে। এরপরে যদি এক আইডিতে একাধিক সিমের নিবন্ধন পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই আমরা মোবাইল কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

১৫ অক্টোবর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকরা সিমের নিবন্ধন যাচাইবাছাই করতে পারবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে সিমের গ্রাহকদের এসএমএস পাঠাবে মোবাইল ফোন অপারেটররা। ২০১২ সালের আগে নিবন্ধনকৃত সিম যাচাইবাছাই করতেই এসএমএসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক সিমের একাধিক ব্যবহারকারী বা একাধিক নিবন্ধন রয়েছে কি না- সেই তথ্যও বের হয়ে আসবে এ পদ্ধতিতে।

তিনি জানান, কেউ ফেক আইডি থেকে হাজার হাজার সিম নিবন্ধন করেছেন। আবার কারো আইডি ঠিক আছে, কিন্তু অস্বাভাবিক সংখ্যায় সিম নিবন্ধন করেছেন। এসব ভয়াবহ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১৫ অক্টোবর থেকে মোবাইল কোম্পানির পক্ষ থেকে এসএমএস দেওয়া হবে গ্রাহকদের। এনআইডি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চাওয়া হবে। একটি কোড থাকবে। ওই কোড ব্যবহার করবেন গ্রাহকরা। পরে গ্রাহকদের দেওয়া তথ্য অপারেটররা পাঠাবেন এনআইডিতে। সেখানে যাচাই-বাছাই হওয়ার পর চূড়ান্ত নিবন্ধনের বিষয়টি পরিষ্কার হবে। প্রয়োজনে অনিবন্ধিত সিম আবারো নিবন্ধন করা হবে।’ গ্রাহক নিজেই চাইলে তার নিবন্ধন রয়েছে কিনা এসএমএসের মাধ্যমে জেনে নিতে পারবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি কোড দিয়ে এসএমএসের মাধ্যমে যেকোনো সময় গ্রাহক চাইলে নিজের সিমের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। তার সিমটি আর কোথাও কেউ নিবন্ধন করেছে কি না, তাও নিজের নিরাপত্তার জন্য জেনে নেওয়া যাবে। আমরা একটি কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছি, যাতে জনগণ নিরাপদ থাকে। দেশকেও যেন তারা নিরাপদ রাখে। তারা ঠিকভাবে সিমটি ব্যবহার করছেন কি না তা যেন আমরা নিশ্চিত করতে পারি।’

সঠিকভাবে নিবন্ধনকৃত সিমের গ্রাহকদের ভোগান্তি হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, ‘যাদের নিবন্ধন সঠিক রয়েছে তাদের জন্য কোনো সমস্যা নেই। আমরা এ প্রক্রিয়ায় তাদের ইনভলভ করছি না। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন একটি অবৈধ সিমের জন্য ভোগান্তিতে না পড়েন  সেটিই আমাদের উদ্দেশ্য।’

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ