সিসি ডেস্ক: সাগরে ট্রলার ডুবির ৫ দিন পরও চরফ্যাশনের ১৬ জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এসব নিখোঁজ জেলে পরিবারগুলোতে ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। গত শনিবার সাগরের ঝড়ের কবলে ৫৮ জন জেলেকে নিয়ে ৪টি মাছধরা ট্রলার ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপর ২৫ জেলকে উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিল ৩৩ জন। বুধবার পর্যন্ত আরও ১৭ জেলেকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো ১৬ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে ওইসব জেলে পরিবারে নেই কোনো ঈদ আনন্দ।
এদিকে, বুধবার সকালে কুকরীর মনুরা ঘাট এলাকার সাগরকূলে কালো শর্ট-প্যান্ট পরা একটি মরদেহ ভাসতে দেখেছে স্থানীয় জেলেরা । দেহটি শনিবারের ট্রলারডুবিতে নিহত কোনো হতভাগ্য জেলের হবে বলে তাদের ধারণা।
শনিবার পটুয়াখালীর মহিপুর সংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ২০ জন জেলেসহ ডুবে যায় চরফ্যাশনের শুকনাখালী ঘাটের শাহাবুদ্দিন মাঝির ট্রলার। ঘটনার ৪ দিন পর মঙ্গলবার সকালে ট্রলার মাঝি শাহাবুদ্দিন, মিস্ত্রি সেলিম এবং সহযোগী জেলে আলমকে সাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি মাছধরা ট্রলার উদ্ধার করেছে। বুধবার এ তিনজন চরফ্যাশনের নুরাবাদ গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে। তারা ফিরে আসার মধ্যদিয়ে ওই ট্রলারের সব জেলে উদ্ধার হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে ট্রলার মালিক ফারুক হোসেন কোম্পানি জানিয়েছেন।
এদিকে, একই দিনে মহিপুরের দক্ষিণ সগরে ২০ জন জেলে নিয়ে ডুবে যায় আ.আলী মাঝির ট্রলার। ঘটনার পরপর ট্রলার মাঝি আবদুল আলী এবং জেলে শাহজাহানকে উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ ছিল ১৮ জন। তাদের মধ্যে বুধবার ভোর ৪টায় মহিপুরের চর মোরা থেকে নুরুল ইসলাম মাঝির ট্রলার মো. আলী এবং শাহজাহান নামে আরও দু’জনকে উদ্ধার করেছে। এখনো ওই ট্রলারের ১৬ জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে ট্রলার মালিক ঢালচরের রহিম মাঝি জানিয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে- মোফাজ্জল, আলমগীর, দেলোয়ার, শাহাবুদ্দিন, ওয়াব আলী, কাওরান মিয়া, ইমন, আবুল কালাম, রাকিব এবং মান্নানের নাম জানা গেছে। তারা সবাই চরফ্যাশনের করিমপাড়া, কচ্চপিয়া এবং ঢালচরের বাসিন্দা।
অপরদিকে, বুধবার সকালে জোয়ারের স্রোতে কুকরীর চর মনুরা ঘাট সংলগ্ন সাগরকূলে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেছে স্থানীয় জেলেরা। প্রত্যকদর্শী কচ্চপিয়া ঘাটের জেলে সোহাগ জানান, মৃতব্যক্তির পরনে কালো হাফপ্যান্ট এবং মাথায় ছোট ছোট চুল দেখা গেছে। আইনী জটিলতার ভয়ে জেলেরা লাশ দাফন বা পুলিশকে খবর দেননি বলে মনুরা ঘাটের একজন আড়ৎমালিক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এসআই তারিকুল ইসলাম সাগরকূলে লাশ ভেসে আসার বিষয় কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।