সিসি ডেস্ক : থানায় হামলা মামলার প্রধান আসামির কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে পাঁচ শতাংশ জমি নিয়ে ফেঁসে গেলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল আলম।
ওই ওসির বিরুদ্ধে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি অনুসন্ধান কর্মকর্তা অবসর নেওয়ার কারণে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজার রায় ঘোষণার পর ২০১৩ সালের ৩ মার্চ শাজাহানপুর থানায় আক্রমণ করে জামায়াত-শিবির। হামলাকারীরা থানায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ প্রতিরোধ করলে থানার ফটকে সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন হামলাকারী নিহত হন। হামলার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বদানের অভিযোগ ওঠে জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাঁকে ১ নম্বর আসামি করা হয়।
অথচ অভিযোগ রয়েছে আসামি ইয়াসিন আলীর কাছ থেকে ইট দিয়ে ঘেরা পাঁচ শতাংশ জমি ঘুষ হিসেবে নেন থানার ওসি মাহমুদুল আলম। তবে দলিল নিবন্ধন হয়েছে ওসির দুই ভাইয়ের নামে। আর ওই ঘুষ নেওয়ার কারণে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। ঢাকা-দিনাজপুর সড়কের পাশের এই পাঁচ শতক জমির বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৩৫ লাখ টাকা।
দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, ২০১৪ সালের শেষের দিকে ওই ওসির বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। একই সঙ্গে দুদকের উপপরিচালক এসএম গোলাম মাওলা সিদ্দিকীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি তিনি অবসরে যাওয়ায় কমিশন থেকে নতুন করে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর উপসহকারী পরিচালক মো. মনোয়ারুল ইসলামকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপপরিচালক শেখ জাইয়াজ আলমকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।