চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুর চিরিরবন্দরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, সমাজ সেবা অফিসার ও সোনালী ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক সুকৌশলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জিম্মি করে জমজমাট ভাতা বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রমতে, সরকারি বিধি মোতাবেক মুক্তি যোদ্ধাদের নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্ট এর মাধ্যমে সম্মানি ভাতা পরিশোধ করার নির্দেশ রহিয়াছে। সরকারি নির্দেশ মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধাগন ২ বৎসর পূর্বে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় তাদের সুবিধা অনুযায়ি নিজ নিজ এলাকায় সোনালী ব্যাংক/অগ্রণী ব্যাংক/কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক/রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ১০/- টাকায় একাউন্ট খুলেন। কিন্তুু অজ্ঞাত কারণে কিছুদিন পর সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তা গনের নির্দেশে উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা পুনরায় সোনালী ব্যাংক চিরিরবন্দর শাখায় একাউন্ট খোলেন। তার পরও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে সম্মানী ভাতা পরিশোধ না করে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে মাষ্টার রোলের মাধ্যমে সম্মানী ভাতা প্রদান করে আসছেন। একই কায়দায় গত ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর/১৫ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ৮ হাজার করে ৩ মাসের ২৪ হাজার টাকা প্রদানের সময় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নানা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে প্রত্যেকের নিকট হতে ১-৩ হাজার করে টাকা গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে আব্দুর রউফ, খোকা ফকির, কামরুল ইসলাম, আব্দুল হক ছলেমান আলী, ফজলার রহমান, মোসলেম উদ্দিনসহ অনেকের কাজ থেকে জোড়পুর্বক ৩ হাজার করে টাকা আদায় করে। তবে উক্ত দূর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শাহাবুল্লাহ, সুলতান মাহমুদ, ইলিয়াস আলী, জয়ন্ত কুমার রায়, মনছুর আলী ও আব্দুল মালেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে বিভিন্ন দপ্তরে বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মমিনুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি অর্থ গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন। যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার ময়নুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টে টাকা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান মুক্তিবার্তা ও প্রধানমন্ত্রীর সনদ যাদের নেই তাদের ক্ষেত্রে ৩শ টাকা মূল্যের নন গেজেটেড স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।
অপরদিকে সোনালী ব্যাংক চিরিরবন্দর শাখা ব্যবস্থাপক সাকলায়েনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, একাউন্টের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদান করার কথা থাকলেও মুক্তিযোদ্ধা অফিস কোন তালিকা দেয় নি।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ মাহমুদের সাথে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে অবগত নন এবং তথ্যর জন্য তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন। তবে আগামীতে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।