সিসি ডেস্ক: ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডে কিলার গ্রুপের সন্দেহভাজন সদস্য হিসেবে শ্যুটার জুয়েলকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে, তাভেল্লা হত্যা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কেউ-ই বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে অনেককেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অনেকের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও মিলছে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া ও নেপথ্যে থাকা খুনিদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও তারা তৈরি করেছেন। তাদের মধ্যে শ্যুটার জুয়েলও রয়েছেন। তাকে দক্ষিণ বাড্ডার শিমুলতুলা বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়। তার বাবার নাম সোহরাব হোসেন। কয়েক বছর আগে বাড্ডা এলাকার অন্যতম সন্ত্রাসী হিরণকে খুনের মধ্য দিয়ে শ্যুটার জুয়েল আলোচনায় আসেন।
সূত্র আজানায়, তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে রুবেল, আলমগীর, লায়েজ উদ্দিন, রাসেলসহ ১২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। তাদের অনেকেই গুলশান, বাড্ডা ও মহাখালী এলাকায় ভাড়াটিয়া কিলার হিসেবে কাজ করে বলেও গোয়েন্দারা জানান। ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার ও জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যার সঙ্গে জড়িত কি না—এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সবকিছু নিশ্চিত না হয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল আরেক কর্মকর্তা জানান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)থেকে ব্যালিস্টিক রিপোর্ট হাতে পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতালির নাগরিক খুনে সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ মডেলের পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছিল। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কেউ-কেউ এ হত্যা মিশন সম্পর্কে অবহিত ছিলেন বলেও গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান-২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়কের গভর্নর হাউজের দক্ষিণের দেয়াল ঘেঁষা ফুটপাতে ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজারকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পাঁচ দিনের মাথায় ৩ অক্টোবর সকালে রংপুরের কাউনিয়ার আলুটারী গ্রামে জাপানি নাগরিক ওসি কুনিওকেও একই কায়দায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।