• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন |

পদ্মার পাড়ে সচিবদের বৈঠক

63839_1সিসি নিউজ: প্রায় ৬০ জন সচিবের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প মাওয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সচিব সভা। এবারই প্রথম সচিবালয়ের বাইরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর স্থলে আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে এ সভা।

সভায় যোগ দিতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে বাসে চড়ে সকাল ৯টায় সচিবরা আসেন সভাস্থলে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিশ্চিতকরণসহ কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখার জন্য প্রকল্প এলাকায় আসেন সচিব কমিটি।

সভার শুরুতেই পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নানা তথ্য ও বর্তমান চিত্র সচিবদের সামনে উপস্থাপন করেন প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

পরে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় সচিব সভা।

সভা শেষে সচিবরা পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় সেতুর কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

এতদিন এ সভা মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে হলেও রাজধানীর বাইরে এই সভার আয়োজন পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের অগ্রগতিতে ভিন্নমাত্রা যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশাবাদ সৃষ্টি হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা নেয়ার পর সকাল ১০টায় সচিবরা বসেন মূল সভায়। সভায় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আন্ত:মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ এবং জাতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পদ্মা সেতুর প্রত্যাশিত প্রভাব পর্যালোচনা করেন সচিবরা।

দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত সভা করে সচিবরা পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় কাজের বাস্তব অগ্রগতি দেখতে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এক ঘণ্টা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেল ৪টায় বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশে মাওয়া ত্যাগ করেন সচিবরা।

সভা শেষে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে পদ্মা সেতুর মূল পাইলিং কাজ শুরু হবে।

২০১৮ সালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শেষ হবে। প্রকল্প এলাকার ভূমিসহ সব রিসোর্স পরিকল্পনা মাফিক ব্যবহার করতে হবে। প্রকল্প এলাকা ঘিরে এ অঞ্চলে যেসব উন্নয়ন কাজ হবে তা মাথায় রেখেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

কাজেই পদ্মা সেতুর দুইপাড় এমনকি বুড়িগঙ্গা সেতু পর্যন্ত একটা পরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে জনগণ এই সেতুকে ঘিরে অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত সর্বোচ্চ সুবিধা পায়। সেতুর কাজ শেষ হলে শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নয় সব মন্ত্রণালয় এর সুবিধা পাবে।

মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সেতু বাস্তবায়ন কাজ করলেও পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহযোগীতা ও সমন্বয় দরকার।

আর এ সেতু নির্মিত হলে দেশের অর্থনীতিতে যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তাও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে সস্পৃক্ত। তাই পদ্মাপারে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সেখানে সচিব সভা হলে স্বাভাবিকভাবেই সচিবদের সম্পৃক্ততা আরো বাড়বে এবং বৃহৎ এ প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সম্পর্কে সবাই সচেতন হবেন।

এর মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশাবাদ সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে এইচ এম এরশাদের শাসনামলে নাটোরের উত্তরা গণভবনে মন্ত্রীসভার একটি বৈঠক হয়েছিল। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও সেখানে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক হয়। ঢাকার বাইরে সচিবদের নিয়ে আজ প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ