সিসি ডেস্ক: এবার আসছে ‘সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংক’ ও ‘সীমান্ত ব্যাংক’ নামে দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্য ব্যাংক দুটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত সৃমদ্ধি সোপান ব্যাংক এবং বিজিবির জন্য সীমান্ত ব্যাংক। ব্যাংক দুটি যেকোন দিন অনুমোদন পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। নতুন আর কোনো ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি মনে করি না। এখন তো অনেকেই ব্যাংক চাচ্ছে। এর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সমৃদ্ধি সোপান এবং বিজিবির জন্য সীমান্ত ব্যাংক। এদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চূড়ান্ত হতে আরো বেশ কিছু সময় লাগবে। আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা না থাকলেও এ দুটি ব্যাংকের অনুমোদন দিতে হবে। এ ছাড়াও নৌবাহিনীসহ আরো কয়েকটি সরকারি সংস্থা ব্যাংক চাচ্ছে। দেখা যাক কী হয়।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. আসলাম আলম বলেন, দেশে এখনো ৭০ শতাংশ মানুষ ব্যাংকিং সেবার বাইরে আছে। এদের সবাইকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে হলে আরো ব্যাংকের প্রয়োজন আছে।
সূত্র জানায়, সরকারি খাতে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের বিকল্প আয়ের উৎস বিবেচনায় নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক দুটি গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংক হবে সরকারি চাকুরেদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার একটি অন্যতম মাধ্যম। একইভাবে সীমান্ত ব্যাংক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পরিবারের কল্যাণে কাজ করবে। দুটি ব্যাংকই গঠন করা হবে ট্রাস্ট ব্যাংকের আদলে।
সূত্র জানায়, জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন সরকারি খাতে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের কথা বিবেচনা করে ‘সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংকের’ সুপারিশ করে। পরে সচিব কমিটি তথা বেতন পর্যালোচনা কমিটিও এতে সম্মতি দেয়। ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের জন্য একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে।
সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, সরকারি খাতে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংক’ গঠন করা হচ্ছে। অর্থবিভাগ এতে প্রাথমিকভাবে সম্মতি দিয়েছে। ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ব্যাংকটি যাত্রা শুরু করবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ব্যাংকটি নিয়ে কাজ করবে। ব্যাংকের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত চেয়েছে ব্যাংকিং বিভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ দিনে একবার এবং প্রতিমাসের ৪ তারিখে ব্যাংকের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেবে। অর্থমন্ত্রী অনুমোদন দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক এটি নিয়ে পরের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সরকারি চাকুরেদের বিকল্প আয়ের উৎস সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংক
সূত্র জানায়, ব্যাংকটি গঠিত হলে প্রায় ১২ লাখ সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের প্রত্যেকের আজীবন ১০ টাকা মূল্যমানের ৪০০টি শেয়ারের মালিকানা থাকতে পারে। সরকারি চাকরিতে নতুন যারা যোগদান করবে তাদেরও এর শেয়ারের মালিকানা দেওয়া হতে পারে। ব্যাংকের জন্য কল্যাণ বোর্ডের অলস প্রায় ১৪০ কোটি টাকা সিড ক্যাপিটাল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এর মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডাররা নিয়মিত লভ্যাংশ পাবেন। শেয়ারহোল্ডাররা চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংকের শেয়ার ধরে রাখতে পারবেন। ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সূত্র জানায়, ব্যাংকটি আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ঋণ প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার দেবে। এর মুনাফা সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডে যে পরিমাণ অর্থ সঞ্চিত হয়েছে তা কর্মচারীদের প্রদত্ত গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স ও বেনেভোলেন্ট ফান্ড থেকেই এসেছে। তাই এ অর্থ ব্যাংক-বিমা খাতে পুঁজি হিসেবে বিনিয়োগ করে যে লভ্যাংশ পাওয়া যাবে তাও কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডেই আসবে। একই সঙ্গে এর কিছু অংশ কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কল্যাণে ব্যবহার করা হতে পারে। সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংক পরিচালনার জন্য কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডকে পুনর্গঠিত, শক্তিশালী করা হতে পারে। ব্যাংকের জন্য কল্যাণ ফান্ডের দৈনিক বাংলার মোড়ে যে বিরাট ভূমিখণ্ড রয়েছে সেখান থেকে ২০ বা ২৫ কাঠা জমি বিক্রি করে ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন জোগাড় করা হতে পারে। তবে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় কোথায় হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি বলে জানায় সূত্রটি।
সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংকের রূপরেখা সম্পর্কে পে-কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ব্যাংকটি একটি উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকধর্মী ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে। এতে শেয়ারহোল্ডারদের প্রতিনিধি নির্বাচনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকবে। ব্যাংকে ১০ থেকে ১২ লাখ লোকের মধ্য থেকে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন করা হবে। ব্যাপক সংস্কার ও পুণর্গঠন করে সরকারকে ভেবেচিন্তে ব্যাংকে চাকরি দিতে সুপারিশ করেছে কমিশন।
সীমান্ত ব্যাংকের লাভের অংশ ব্যয় হবে বিজিবির কল্যাণে
সমৃদ্ধি সোপান ব্যাংক ছাড়াও বিজিবি পরিবারের কল্যাণে গঠন করা হচ্ছে সীমান্ত ব্যাংক। সীমান্ত ব্যাংকের পুরো লভাংশ ব্যয় হবে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের জন্য। প্রাথমিকভাবে ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকা বিজিবির কল্যাণ ফান্ড থেকে দেওয়া হবে। বাকি ৩০০ কোটি টাকা সহজ শর্তে সরকারি ঋণ গ্রহণের ব্যাপারে অর্থবিভাগ সম্মতি দিয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। ব্যাংকটির ব্যাপারে পরের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের আইনে লাইসেন্স ও অনুমতি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। রাজধানীর ধানমন্ডি ঝিগাতলা সীমান্ত স্কয়ারের নতুন ভবনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হবে।
সূত্র জানায়, সীমান্ত ব্যাংকের লভাংশের পুরো অর্থ ব্যয় করা হবে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যসহ দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা, বিজিবি সদস্য ও তাদের পরিবারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী কার্যক্রমে। ব্যাংক থেকে পাওয়া যাবে সহজ শর্তে ঋণ। থাকবে পেনশন স্কিম, গৃহ নির্মাণ ঋণ, দুরারোগ্য রোগের জন্য দেশি ও বৈদেশিক চিকিৎসা সহায়তা। এ ছাড়া বিবাহঋণ, কৃষিঋণ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পঋণ কার্যক্রমেও ব্যাংক থেকে সহায়তা দেওয়া হবে। ব্যাংকটি শুধু বাণিজ্যিক লভাংশের জন্য পরিচালিত হবে না। বরং এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ কল্যাণমুখী একটি আধুনিক ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হবে। ঋণের ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। ব্যাংকে চাকরির ক্ষেত্রে বিজিবির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন।