• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে ছাত্রকে হত্যার দায়ে শিক্ষকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

আদালতনীলফামারী: মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যার দায়ে নীলফামারীর জলঢাকার কৈমারী বসুনিয়াপাড়া এজাহারিয়া জামিয়া দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকসহ তিন জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও নগদ ১০ হাজার টাকার অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত।

সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নীলফামারী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাহবুবুল আলম এই রায় দেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি নয়াবাড়ি গ্রামের মৃত. আবদুল্লা মিয়ার ছেলে শওকত আলী (৫৮),  সহকারী শিক্ষক কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে মফিজুল ইসলাম (৩৩) ও ওই মাদ্রাসার ছাত্র জলঢাকা উপজেলা ডাউয়াবাড়ি নেকবক্ত গ্রামের জহুরুল হকের ছেলে মনিরুজ্জামান (২৭)।

নীলফামারী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারী কৌশলি জামিল আহমেদ জানান, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককের নির্যাতনের প্রতিবাদ করা এবং এক শিক্ষকের অসামাজিক কার্যকলাপ দেখে ফেলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা ২০০৭ সালের ১ জুলাই রাতে জলঢাকা উপজেলার কৈয়মারী ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়া মাদ্রাসার হাফিজিয়া শ্রেণীর ছাত্র ওয়াচকুরুনীকে (১৪) চাচাতো ভাইয়ের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন দুপুরে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের পিছন থেকে ওয়াচকুরুনীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ওয়াচুরুনী রংপুর জেলার গঙ্গচড়া ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে।

ওই দিনই সন্ধ্যায় নিহত মাদ্রাসা ছাত্রের বাবা আজিম উদ্দিন বাদী হয়ে মাদ্রার প্রধান শিক্ষক শওকত আলী, ক্বারী শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ও মাদ্রাসার ক্বারী শ্রেণীর ছাত্র মনিরুজ্জামানকে আসামী করে জলঢাকা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার দীর্ঘ শুনানী শেষে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাহবুবুল আলম তিন জনকে দন্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করে এবং ১০ হাজার টাকার অর্থ দন্ড অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ