রংপুর: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে ১৫ দিনের মধ্যে সদ্য চালু হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ত্যাগ করতে বলে মুঠোফোনের নাম্বার থেকে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে রেড এলার্ট দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যথায় উল্লেখিত ৮ জন নেতাকর্মীকে যেকোন সময় খারাপ কিছু করার হুমকি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৭ টা বেজে ৫২ মিনিটে ০১৯৬৫-৪৯৫৩৩১ এই নাম্বার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী রাজের ফোনে একটি ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে এই রেড এলার্ট দেয়া হয়।
ক্ষুদে বার্তার লেখা আছে, “রাজ শোন তোদের ‘রেড এলার্ট ’দেই হারুন, তুষার, আফজাল মিথিষ, শিহাব, ফাহিম, পোমেল ও তোকে বলি খুব তাড়াতাড়ি তোদের যে কাউকে সিস্টেম করা হবে, পারলে তারাতারি হল ছেড়ে মেসে যা। সময় পনের দিন।”
জানতে চাইলে, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী রাজ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আমার ফোনে ০১৯৬৫-৪৯৫৩৩১ এই নাম্বার থেকে একটি এসএমএস আসে। এসএমএস এ আমাকে সহ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অন্য দুই সহ-সভাপতি হারুনর রশিদ, তুষার কিবরিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন জয়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিহাব, কর্মী পুমেল বড়ুয়া, মিতিশ চন্দ্র রায় ও ফাহিমের নাম উল্লেখ্য করে আমাদেরকে ১৫ দিনের মধ্যে হল ছেড়ে মেসে গিয়ে অবস্থান নিতে বলে রেড এলার্ট দেয়া হয়। অন্যথায় আমাদেরকে সিস্টেম করা হবে বলে উল্লেখ্য করা হয়েছে।
বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহীনুর রহমান (চলতি দায়িত্ব), হলের প্রভোস্ট বডি সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই বার্তা পাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই উল্লেখিত নাম্বারটি বন্ধ রয়েছে।
কে বা কারা এমন হুমকি দিতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, হলে শিবির আধিপত্য বিস্তার করতেই এই কাজ করেছে। তাই প্রভোস্ট বডিকে বলেছি অতি শীঘ্রই যেন এই হল শিবির শূন্য করা হয়।
এছাড়াও আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী রাজ।
এদিকে এই ঘটনার পিছনে আসলে কারা জড়িত রয়েছে সে বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবির এতদিন গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে তাদের কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম লক্ষ করা যায়নি। তাই এই ঘটনা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন সমস্যা কিনা সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা উচিত বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।
হুমকীর বিষয়ে জানতে চাইলে, বঙ্গবন্ধু হলের সহকারী প্রভোস্ট বেলাল হোসেন জানান, বিষয়টি অনাকাঙ্খিত, হলে যাতে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় আমরা এর জন্য নিরাপত্তা জোরদার করব।