সিসি ডেস্ক: দ্বীপটার নাম উচ্চারণ করতে মুখটাকে আপনার বেশ বাঁকাচোরা করতে হবে- ইলহা দ্য কুয়েইমাদা গ্রানডি। ব্রাজিলের রাজধানী সাও পালো থেকে মাত্র ৯০ মাইল দূরে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সব ছেড়েছুড়ে এখানেই বাস করতে শুরু করি। সাবধান! ওই চিন্তাও মাথায় আনা যাবে না। কারণ এই দ্বীপের পুরোটাতেই সাপের রাজত্ব। এখানে কোনো মানুষই বসবাসের চিন্তা করে না।
প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া মূল ভূখন্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইলহা দ্য কুয়েইমাদা গ্রানডি। এরপর থেকেই দ্বীপটি মনুষ্যবিহীন। প্রচলিত আছে , জলদস্যুরা তাদের সম্পদ লুকিয়ে রাখার জন্য দ্বীপটিকে বেছে নিয়েছিল। দ্বীপে যাতে কেউ না আসতে পারে সেজন্য তারাই এখানে সাপ নিয়ে এসেছিল।
সাগরে জাহাজ চলাচলের সুবিধার্থে ১৯০৯ সালে দ্বীপটিতে একটি লাইট হাউজ নির্মাণ করা হয়। দ্বীপে আধুনিকতার ছোঁয়া বলতেই এই লাইটহাউজটাই। এটি পরিচালনার জন্য ১৯০৯ থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত বেশ অল্প কয়েকজন লোকই দ্বীপটিতে বাস করতে পেরেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এই লাইটহাউজ নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে। তাদের ভাষ্য, লাইটহাউজ পরিচালনার জন্য দ্বীপটিতে সর্বশেষ ১৯২০ সালে এক লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে দ্বীপটিতে এসেছিল ওই কর্মচারী। কয়েক দিন পর ঘরের জানালা দিয়ে বেশ কয়েকটি সাপ প্রবেশ করে। কোনো রকমে এগুলোর হাত থেকে বেঁচে পড়িমরি করে সাগর তীরে বাঁধা নৌকার দিকে ছুটলেন ওই কর্মচারী ও তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু নৌকায় ওঠার আগেই গাছে থাকা সাপের দংশনে তাদের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের দাবি দ্বীপটিতে প্রতি বর্গমিটারে এক থেকে পাঁচটি সাপ বাস করে। তবে চলতি বছর ডিসকভারি চ্যানেলের পক্ষ থেকে দ্বীপটি নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়। এতে বলা হয় দ্বীপটিতে প্রায় চার হাজার সাপ রয়েছে। সেই হিসেবে ৪ লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটারের দ্বীপটির প্রতি ৭৫ বর্গকিলোমিটারে একটি সাপ বসবাস।
ইলহা দ্য কুয়েইমাদা গ্রানডিওতে যে সাপগুলো বাস করে এগুলোর মাথা সোনালি রঙের। তবে গায়ের চামড়া ধূসর হলুদ বর্ণের। এছাড়া গায়ে হালকা কালো ছোপও রয়েছে। এগুলো গড়ে ২৮ ইঞ্চি লম্বা হয়। তবে ৪৯ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হওয়ারও রেকর্ড রয়েছে। এগুলোর বিষ ব্রাজিলের অন্যান্য অঞ্চলের সাপের তুলনায় পাঁচগুন বেশি তীব্র। কোনো মানুষকে দংশন করলে এক ঘন্টার মধ্যে নিশ্চিত মৃত্যু। দ্বীপটিতে সাপ ছাড়া অন্যকোনো প্রাণীর অস্তিত্ব নেই। তাই খাদ্যের জন্য তাদের গাছের ওপরে উঠতে হয়। পরিজায়ী পাখিরা দ্বীপটিতে এলে তাদেরই শিকার করে সাপগুলো। বিষের তীব্রতার কারণে পাখিগুলো অন্যকোথাও উড়ে যাওয়ার সুযোগই পায় না।
দ্বীপটি সম্পর্কে ব্রাজিলের প্রায় সব লোকই জানে। তাই সেখানে যাওয়ার কারো দুঃসাহস হয় না। খোদ ব্রাজিলের নৌবাহিনী দ্বীপটিতে জনসাধারণের প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।তবে মাঝে মাঝে সাপ গবেষকরা দ্বীপটিতে যান, তাও খুবই সতর্কতার সঙ্গে। এর জন্য সরকারের কাছ থেকে তাদের বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। তবে সাপ চোরাকারবারিরা এসবের কোন কিছুরই ধার ধারে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা দ্বীপটিতে হানা দেয়। কারণ মাত্র একটি সোনালি মাথার সাপের দাম ১০ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার!