গাইবান্ধা : টানা ২৪ দিন চিকিৎসা শেষে সোমবার বাড়ি ফিরেছে গুলিবিদ্ধ শিশু শাহাদাৎ হোসেন সৌরভ। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলামের ছোঁড়া গুলিতে দুপায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে রংপুর মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন ছিল সে।
বাড়ি ফেরার খবরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ সৌরভদের বাড়িতে ভিড় জমায়। এ সময় শিশু সৌরভ ও তার পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন সৌরভের স্বজন ও মানবাধিকার কর্মীরা।
সোমবার দুপুরে সৌরভের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে উপজেলা ও জেলার সাংবাদিকরা অপেক্ষায় আছেন। আশপাশের মানুষও জমা হচ্ছিল সেখানে। কিছুক্ষণ পর রংপুর মেডিক্যাল থেকে পুলিশ প্রহরায় অ্যাম্বুলেন্সে করে বাবা-মায়ের সঙ্গে বেলা আড়াইটায় সুন্দরগঞ্জের গোপালচরণ গ্রামে ফিরে শিশু সৌরভ।
অ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে স্বজনদের কাঁধে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে টানা ২৪ দিন পর বাড়ির উঠানে বসে। এর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বাবা-মায়ের কাঁধে ভর করে তাদের টিনশেড ঘরের বিছানায় বসে। সেখানে খেলার সাথী আর স্বজনদের কাছে পেয়ে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সৌরভ। তবে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
সৌরভের বাবা সাজু মিয়া বলেন, একটি গরু বিক্রি করে এবং ধার-দেনা করে সৌরভের চিকিৎসার জন্য ৫৩ হাজার টাকা খরচ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, সমাজের অনেকেই তার সন্তানের চিকিৎসার জন্য তাকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।
সৌরভের মা সেলিনা বেগম বলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়ে তিনি আমার নিরপরাধ ছেলেকে গুলি করেছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছি। সংসদ সদস্য লিটন যাতে তাদের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের সাহায্য চান তিনি।
অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, একজন প্রভাবশালীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর পরিবারটির নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
গত ২ অক্টোবর গোপালচরণ এলাকায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের গুলিতে শাহাদৎ হোসেন সৌরভ আহত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়। সংসদ সদস্য লিটনকে গত ১৪ অক্টোবর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে।