• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ অপরাহ্ন |

পার্বতীপুরে চলছে শীত বরণের প্রস্তুতি

Parbatipur_(Dinajpur)Photo_Rokunuzzaman-06.11.2015রুকুনুজ্জামান বাবুল, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) : বিন্দু বিন্দু শিশির জমতে শুরু করেছে ঘাসের ডগায়, ধানের শীষে। কার্তিক-অগ্রায়ন মাস মিলে যড়ৎঋতুর চতুর্থ ঋতু হেমন্ত। শরৎকালের পর এই ঋতুর আগমন। তাই প্রকৃতিতে একটু একটু করে অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ। গ্রাম বাংলায় এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে হালকা শীত। ঠিক যেন শীতের পরশ নিয়ে এল হেমন্ত।
দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুরে পার্বতীপুরে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ । বিকাল থেকেই শীতল হাওয়া আর সন্ধ্যার পর পরই কুয়াঁশা ঝরতে শুরু করেছে । মধ্য রাতের পর টিনের চালা থেকে পড়ছে হালকা বৃষ্টির মত পানি। সকালে গাছ গাছালিতে জমে থাকছে শিশির । সূর্য উঠার অনেক পর পযন্ত জমে থাকা শিশির দেখা যচ্ছে। এদিকে শীতের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই পুরনো শীত বস্ত্র ঠিক ঠাক করে নিচ্ছেন । আবার অনেকে নতুন করে লেপ-তোষক তৈরী করে নিচ্ছেন । প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিম্ন আয়ের মানুষের শীত নিবারণের একমাত্র অবলম্বন কাঁথা। এসব পরিবারের নারী সদস্যরা এখন কাজের ফাঁকে তাদের পুরনো কাঁথা মেরামত আর ছেঁড়া শাড়ি -লুঙ্গি দিয়ে নতুন কাঁথা তৈরীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
হিমালয়ের খুব কাছের কয়েরটি জেলার মধ্যে দিনাজপুর, তাই কাছের জেলা গুলোর মধ্যে দিনাজপুরে জেলায়ও শীত নামে বেশ আগে ভাগেই । এবারো এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। মধ্য আশ্বিনের পর থেকেই শুরু হয়েছে হালকা কুয়াশা । ক্রমেই তা ভারি হচ্ছে। ক’দিন থেকে সন্ধ্যার পরই শুরু হয়েছে মাঝারি কুঁয়াশা। ভোর পযর্ন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াঁশার পরিমান বেড়ে যাওয়ায় সকালে সূর্য উঠার পরও জমির আইল দিয়ে হাঁটলে শরীর ভিজে যাচ্ছে । শীষ বের হওয়া আমন ধানের গাছ সূর্য উঠার অনেক পর পর্যন্ত শিশির লেগে থাকছে । এখন দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে সর্বত্র চলছে শীতকে বরণ করার প্রস্তুতি। শীতের রাতে বিছানায় পরিবারের সদস্যদের উষ্ণ রাখতে সবাই ব্যস্ত লেপ-তোষক মেরামত আর নতুন করে তৈরী করতে।
উপজেলার রাজাবাসর ল্যাম্ব হাসপাতাল বাজারের তুলা ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে এসব তৈরীর কারিগরদের কাজের গতি বেড়ে গেছে। তাদের এখন দম ফেলাবার ফুরসত নেই । উপজেলার বিভিন্ন লেপ-তোষক তৈরীর কারিগর ব্যস্ত নতুন লেপ তৈরীতে । কথা বলার সময় নেই তাদের । কয়েক মাস তাদের হাতে কাজ না থাকায় মৌসুম শুরু হওয়ায় দ্রুত কাজ করে তারা বাড়তি টাকা আয় করছেন। আর যাদের এগুলো তৈরীর সার্মথ্য নেই , তারা ব্যস্ত কাঁথা নিয়ে। শীত নিবারণের জন্য এটাই তাদের বড় উপকরণ ।
উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার ঘুরে দেখা গেছে ,অনেক নারী ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তাদের পুরনো কাঁথা নতুন করে শেলাই করতে। বাড়ির পাশে গাছের নিচে বসে রং বেরঙের সুতো দিয়ে তারা তৈরী করছেন নতুন কাঁথা । সারা বছর ব্যবহারের পর ছিড়ে যাওয়া শাড়ি আর লুঙ্গি দিয়ে তৈরী হচ্ছে এসব কাঁথা । অপেক্ষাকৃত উচুঁ জমিতে কৃষকরা আবাদ করেছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি । শাক-সবজি ইতিমধ্যে হাট-বাজার গুলোতে উঠতে শুরু করেছে । শীতের শাক-সবজির দামও বেশ ভাল । হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখেও

ট্রাক্টর মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

পার্বতীপুরে সরকারী বালু মহাল ইজারা নিয়ে পার্বতীপুর ট্রাক্টর মালিক সমিতি বালু উত্তোলন শুর“ করলেও এর চার মাস পর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের স্থানীয় নেতা মজিবর রহমান তার দাপটে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। বর্তমানে ওই নেতা প্রশাসনকে “ম্যানেজ” করে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বালু উত্তোলন করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ইজারাদার প্রতিষ্ঠান পার্বতীপুর ট্রাক্টর মালিক সমিতির সদস্যরা। এদিকে, মুল ইজারাদার এর প্রতিকার চেয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও সুরহা হ”েছ না বলে অভিযোগ করেছেন। জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) দপ্তর থেকে এ বছর ১৬ ফেব্র“য়ারী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বড়হরিপুর গ্রামের ছোট যমুনা নদীর বালু মহাল ইজারা দেয়ার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত পার্বতীপুর ট্রাক্টর মালিক সমিতি দরপত্র দাখিল করে। গত ১ এপ্রিল দরপত্র বাছাইয়ের দিন সর্বো”চ দরদাতা হওয়ায় পার্বতীপুর ট্রাক্টর মালিক সমিতি ইজারাদার নির্বাচিত হন। দরপত্রের শর্তানুযায়ী পার্বতীপুর ট্রাক্টর মালিক সমিতির পে সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মশিউর রহমান গত ১২ এপ্রিল দরপত্রে উলেখিত সমুদয় টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। আজ বৃহস্পতিবার পার্বতীপুর রেলওয়ে পার্কের মিডিয়া কর্ণারে এক সংবাদ সম্মেলনে পার্বতীপুর ট্রাক্টর মালিক সমিতির উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও সাধারন সম্পাদক মাহাবুর রশিদ সংগ্রাম বলেন, বাংলা ১৪২২ সনের ১ বৈশাখ থেকে ওই বালু মহাল থেকে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়। প্রায় চার মাস পর চন্ডিপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মজিবর রহমান বলপ্রয়োগ করে আমাদের উচ্ছেদ করে। এরপর থেকে মজিবর রহমানের লোকজন সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। বিষয়টি মৌখিক ভাবে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব)কে অবহিত করা হলেও অদ্যাবধি প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে আমরা আর্থিকভাবে তির সম্মুখিন হয়েছি। এ ব্যাপারে দিনাজপুরের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) বলেন, ইজারাদারদের উচিত জেলা প্রশাসকের নিকট তাদের অভিযোগ লিখিত আকারে প্রদান করা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ