সিসি ডেস্ক: বাংলাদেশে দুই মাথা এক শরীরের শিশু বিরল। গত বুধবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দুই মাথা নিয়ে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ ধরনের শিশু এদেশে যেমন বিরল, তাদের বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনাও তেমনি ক্ষীণ। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মা সুস্থ থাকলেও শিশুটি এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিশু চিকিৎসক হালিমা নাজনীন বলেন, পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গতরাতে (বুধবার) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিশুটি এখন এই হাসপাতালের নিওনেটাল (নবজাতক) ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (এনআইসিইউ) বিভাগে চিকিৎসাধীন আছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জন্মের সময় যে শিশুর শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাদের বলা হয় যুক্ত-যমজ বা কনজয়েন্ড টুইন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের এক গবেষণায় জানা গেছে, এ ধরনের শিশুর মধ্যে বেঁচে থাকে কেবল ১ শতাংশ শিশু। বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অপূর্ণাঙ্গ এবং রোগাক্রান্ত শরীরের কারণে এসব শিশুর বেঁচে থাকার হার খুবই কম।
কেন এধরনের বাচ্চা হয় জানতে চাইলে হালিমা নাজনীন বলেন, জমজ বাচ্চা যে কারণে হয়, সে কারণেই হয়ে থাকে। এটা ইনকমপ্লিট ডিভিশনের জন্য হয়। এক শরীরে দুই মাথা এটা বিরল ঘটনা। তিনি আরও বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে প্রসূতি ফেরদৌসী বেগমের (৩০) গর্ভে যমজ সন্তান দেখা গিয়েছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচার করার পর দুই মাথার কন্যা শিশুর জন্ম হয়। তিনি বলেন, একটি ডিম্বানু দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণে বেড়ে ওঠে যমজ শিশুর ভ্রূণ, জন্মানোর সময় যারা বাঁধা থাকে একটি নাড়ির মাধ্যমেই। দুটি ভ্রূণ নিয়ে বেড়ে ওঠা একটি ডিম্বানু দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার জন্য কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। এ সময়টাতে যদি কোনও কারণে সে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে মায়ের গর্ভে এ ধরনের জোড়া যমজ শিশু হয়ে থাকে। তবে মাথা জোড়া দেওয়া শিশু বিরল। সাধারণত পেটের অংশ জোড়া থাকে।
এদিকে, গত ২৬ মার্চ যশোর প্রিন্স হাসপাতালে জাকিয়া সুলতানা লাবনী জোড়া লাগা দুই শিশুর জন্ম দেন। তাদের নাম রাখা হয় লাইবা ও লাবিবা। শিশু দুটির শরীরের বুক ও পেটের অংশ একসাথে লাগানো ছিল। পরবর্তী সময়ে এপ্রিলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পদ্মাকর ইউনিয়নের হাটগোপালপুর এলাকার লৌহজঙ্গা গ্রাম থেকে শিশুটির চিকিৎসা দায়িত্ব নেন ঢাকাস্থ বেসরকারি সংস্থায় আচল ট্রাস্ট। পরবর্তী সময়ে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে জোড়া মাথার শিশুটি যার তত্ত্বাবধানে আছেন, তিনি ঢাকা মেডিকেলের নবজাতক ও শিশুরোগ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো তোফাজ্জল হোসেন খান। তিনি বলেন, আমরা তার চিকিৎসা শুরু করেছি। এক শরীরে দুই মাথার শিশু খুবই বিরল। আমরা এখন তার আল্ট্রাসনো করা থেকে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। তবে খুব আশাবাদী নই। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে আমরা আগাম কিছু বলতে চাই না। সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করা হবে।