সিসি ডেস্ক: বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) দুদিনব্যাপী সম্মেলন আজ ঢাকায় শুরু হচ্ছে। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। আগামী পাঁচ বছরে সরকারের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হবে এ সম্মেলনে। আলোচনা হবে আগের সম্মেলনে প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি নিয়েও। তবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তির বিষয়ে সম্মেলনে আলোচনা হবে না বলে জানা গেছে। উন্নয়ন সহযোগীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বাংলাদেশকে কীভাবে সহায়তা করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকসহ (এআইআইবি) ৩৯টি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে যোগ দিতে এরই মধ্যে ঢাকা পৌঁছেছেন এআইআইবির প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন ও এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনকাই ঝাং।
এবারের সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ইআরডির জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সম্মেলনে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১৬-২০) কৌশলপত্র তুলে ধরা হবে। ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নেও সহযোগিতা চাওয়া হবে তাদের কাছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মেজবাহউদ্দিন বলেন, সম্মেলনের বড় অংশজুড়ে থাকবে অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি বছর অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ হয় জিডিপির ২-৩ শতাংশ। এটি হওয়া উচিত জিডিপির ৮ শতাংশ। বিষয়টি নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হবে।
বিডিএফের আগের সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা সই হয়েছিল। সরকারের তরফ থেকে উন্নয়ন সহযোগীদের কয়েকটি খাতের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তাতে। পাশাপাশি প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে অনুমোদন পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি সহজ করা, কয়লা নীতি চূড়ান্ত করা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কার্যকর ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ আরো কিছু প্রতিশ্রুতি ছিল।
এসব প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকারকে ততটা শক্তিশালী করা যায়নি। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে যেসব সংস্থাকে রাজধানীর বাইরে নেয়ার কথা, করা যায়নি তাও। কয়লা নীতিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাজস্ব আহরণ জিডিপির ১৬ শতাংশে নেয়ার কথা থাকলেও এখনো তা ১২ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ সত্ত্বেও পাঁচ বছর ধরেই তা ২২ শতাংশের ঘরে রয়েছে। এসব বিষয়ও আলোচনায় স্থান পাবে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, কিছু প্রতিশ্রুতি অর্জিত হয়নি ঠিক। তবে অর্জন একেবারে কম নয়। এক্ষেত্রে সরকারের একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা আগামীতে কাজে লাগিয়ে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব হবে।
এবারের সম্মেলন সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের কোন কোন খাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে, সেসব লক্ষ্য অর্জনে কী পরিমাণ দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে সরকারের পক্ষ থেকে তা উপস্থাপন করা হবে।
এবারের সম্মেলনে মোট সাতটি সেশন থাকছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সুশাসন উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও মানসম্মত শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং লিঙ্গ সমতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে ৪১টি স্টল থাকবে। এর মধ্যে সরকারের থাকবে ১৭টি ও উন্নয়ন সহযোগীদের ১৬টি।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৩২ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাত থেকে আসবে ২৪ লাখ কোটি টাকা। বাকি ৮ লাখ কোটি টাকা আসবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে সরাসরি অর্থায়ন না চাওয়া হলেও কৌশলপত্র বাস্তবায়নে তাদের কাছে সরকার সহযোগিতা চাইবে বলে জানান ইআরডি কর্মকর্তারা।
উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এ ধরনের আলোচনাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এখানে সরকার তাদের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো উপস্থাপন করে সে অনুযায়ী সহায়তা প্রত্যাশা করে। অন্যদিকে উন্নয়ন সহযোগীরা সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে উন্নয়ন সাধনের পরামর্শ দেবে। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ইতিবাচক বোঝাপড়া হবে।