পঞ্চগড়: সদ্য বিলুপ্ত পঞ্চগড়ের ৩৬টি ছিটমহলের ৪৮৭ জন নতুন ভারতীয় নাগরিক স্থায়ীভাবে ভারতে চলে যাচ্ছেন। ২২ নভেম্বর থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৪ দফায় এসব ভারতীয় নাগরিক ভারতে চলে যাবেন মর্মে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। সুত্রমতে, আগামী ২২ নভেম্বর প্রথম দফায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার গাড়াতি, বোদা উপজেলার বেহুলা ডাঙ্গা, নাজিরগঞ্জ, শালবাড়ী, কাজলদীঘি ও দেবীগঞ্জ উপজেলার নাটকটোকা ছিটমহলের ১৫টি পরিবারের ৫৫ জন ভারতীয় নাগরিক চিলাহাটী-হলদিবাড়ী সীমান্তপথে স্থায়ীভাবে ভারতে চলে যাবেন।
একইভাবে ২৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় দেবীগঞ্জ উপজেলার কোট ভাজনী ও বালাপাড়া ছিটমহল থেকে ৩১টি পরিবারের ১৭৬জন। ২৪ নভেম্বর তৃতীয় দফায় দেবীগঞ্জ উপজেলার দহলা খাগড়াবাড়ী ছিটমহল থেকে ২৯টি পবিবারের ১৪৮ জন এবং সর্ব শেষ ২৬ নভেম্বর দেবীগঞ্জ উপজেলার দহলা খাগড়াবাড়ী ও বোদা উপজেলার দইখাতা ছিটমহল থেকে ২৩টি পরিবারের ১০৮ জন স্থায়ীভাবে ভারতে চলে যাবেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা য়ায়, সদ্য বিলুপ্ত পঞ্চগড় জেলার ৩৬টি ছিটমহলের ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের চিলাহাটী-হলদিবাড়ী সীমান্তপথ দিয়ে ভারতে যাওয়ার রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সদ্য বিলুপ্ত পঞ্চগড়ের ৩৬টি ছিটমহলের ৪৮৭ জন ভারতীয় নাগরিক এই সীমান্তপথ ব্যবহার করবেন বলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ নভেম্বর সীমান্তে দু‘দেশের প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর নতুন ভারতীয় নাগরিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হবে। চলতি বছর ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত জনগণনায় পঞ্চগড় জেলার ৩৬টি ছিটমহলে ৪৮৭ জন ছিটবাসী ভারতে যাওয়ার অপশন দেন। ৩১ জুলাই মধ্য রাতে বাংলাদেশ-ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২ছিটমহল আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিময় হয়ে যায়। এরপর অনেকে তাদের মত পরিবর্তন করে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বরাবরে আবেদন করেন।
দু‘দেশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকে ছিটবাসীর আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ৪৮৭ জনকে ভারতীয় ট্রাভেল পাস প্রদান করা হয়। মূলত এসব ভারতীয় নাগরিকরাই তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্থায়ীভাবে ভারতে চলে যাচ্ছেন।