মাহবুবুল হক খান/সুকুমার রায়, দিনাজপুর : দিনাজপুরের কাহারোলে মাসব্যাপী ঐতিহাসিক রাস মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপাল।
প্রতি বছর কাহারোল উপজেলার ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের ঢেপা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনোরঞ্জনশীল গোপাল এমপি বলেন, এদেশে সকল ধর্মের মানুষ তাদের সমান অধিকার ভোগ করে আসছে। আর কারণেই ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দিরে আজকের রাস মেলাকে কেন্দ্র করে সব ধর্ম বর্ন নিরিবিশে এখানে আগমন ঘটে হাজার হাজার ভক্তের। এই ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির কাহারোল উপজেলাকে সারাদেশে পরিচয় করিয়ে দেয়।
তিনি বুধবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগর মন্দির প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী রাস মেলার উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনাজপুর রাজ দেবত্তোর এস্টেটের এজেন্ট অমলেন্দু ভৌমিকের সভাপতিত্বে ও দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সভাপিত চিত্ত ষোষের সঞ্চালনায় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাহারোল উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চেীধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মদ রবিউল ফয়সল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি একেএম ফারুক, কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মজিদ, ৫নং সুন্দর পুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাসিরুল ইসলাম, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক পরিমল চক্রবর্তী তপন, সদস্য প্রেম নাথ রায়, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ জেলা শাখার আহবায়ক মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি মনোরঞ্জশীল গোপাল এমপি আরো বলেন, মন্দির নির্মানের পর থেকে কত ঝড়-বৃষ্টি, ভুমিকম্প চলে গেছে। এর ফলে মন্দিরের চুড়াগুলো ভেঙ্গে গেছে। বিগত কোন সরকার এই মন্দিরের সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মন্দিরের সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই মন্দিরে সহজে ভক্তদের আসার জন্য ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রীজও নির্মান করে দিয়েছেন। কান্তজিউ মন্দিরকে পূর্নাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এখানে পর্যটন হোটেল ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে।
মন্দিরের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা বিনয় কুমার মহন্ত জানান, প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের চাঁদের পূর্ণিমায় এই রাস উৎসব পালিত হয়। রাস উৎসব উপলক্ষে বসে রাস মেলা। মেলায় দেশের প্রায় সব জেলা ছাড়াও ভারত থেকেও ভক্তরা মেলায় আসেন। সার্কাস, যাত্রা, পুতুল নাচ ছাড়াও হিন্দু ধর্মীয় বই-পুস্তক, শাঁখা-সিদুর, শড়খ, বালা, চুড়িসহ নানান পণ্যের পসরাসমৃদ্ধ দোকান মেলায় শোভা পেয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে মেলাকে ঘিরে ব্যাপক আয়োজন করেছেন কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবারের ন্যায় এবারেও অগ্রহায়ন মাসের পূর্ণিমায় রাত ১২ টা ১ মিনিটে রাঁধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ রাজ বেধিতে পূঁজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সূচনা করা হবে। মেলা শুরু হওয়ার ২/৩ দিন আগ থেকেই মেলায় রাঁধা-কৃষ্ণের বিগ্রহকে এক নজর দেখতেন ও পাপ মোচন করে পুণ্যের আশায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো নারী-পুরুষ ও ভক্তদের আগমন ঘটে।