সিসি ডেস্ক : ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ব্যাংকিংখাতে হয়রানির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অভিযোগের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে।
সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়েছে ২৫৬টি। তালিকায় ৩য়, ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রের (সিআইপিসি) বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৫ বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে গভর্নর ড. আতিউর রহমানের উপস্থিতিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে প্রকাশিত শীর্ষ ১০ ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাপ্তির হার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। যা মোট অভিযোগের ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ।
এতে আরও দেখা যায়, বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ব্র্যাক ব্যংকের বিরুদ্ধে। প্রাপ্ত অভিযোগের সংখ্যা ১৭৫টি। তালিকায় ২য় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। অভিযোগের সংখ্যা ১২৩টি।
তবে সার্বিকভাবে অভিযোগ জমা পড়ার দিক থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের অবস্থান দ্বিতীয়। আর ইসলামী ব্যাংক আছে ৫ম স্থানে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের সবগুলো ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৩০টি। আর সিআইপিসি চালু হওয়ার পর থেকে অর্থাৎ ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত মোট অভিযোগের সংখ্যা ১৪ হাজার ৯২০টি, যার শতভাগই নিষ্পত্তি হয়েছে।
তবে আলোচিত অর্থবছরে তার আগের অর্থবছরের তুলনায় অভিযোগ তুলনামূলক কম এসেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রাপ্ত মোট অভিযোগ ৪ হাজার ৪৭৬টি। আর ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা ৩ হাজার ৯৩০টি। এ হিসাবে অভিযোগ কমেছে ১২ দশমিক ২০ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাধারণ ব্যাংকিং সংক্রান্ত। এ সংখ্যা ১ হাজার ৩৬১টি, যা মোট অভিযোগের ৩৪ শতাংশ। অন্যগুলোর মধ্য রয়েছে ঋণ ও অগ্রিম সংক্রান্ত ৬৭০টি, কার্ড সংক্রান্ত ২২৮টি, মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত ৯১টি, ট্রেড বিল সংক্রান্ত ২১টি, রেমিট্যান্স সংক্রান্ত ৬৪টি, স্থানীয় বিল সংক্রান্ত ৪১২টি, বৈদেশিক বিল সংক্রান্ত ৩৬৮টি, ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত ৮৭টি ও বিবিধ ৬২৮টি।