সিসি নিউজ : ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ১৮ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ বুধবার । বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আজ এ দিবসটি পালন করছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন। প্রসঙ্গত পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিত নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর কোন তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এ ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে মাতৃভূমির উন্নয়নে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে দলমতনির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে বলে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৩ পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং রাঙ্গামাটি নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে অপার আধার। যুগযুগ ধরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এ অঞ্চলে বসবাস করে আসছেন। তাদের ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এ অঞ্চলকে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যম-িত করেছে।
আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তাই পাবর্ত্য অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং জনগণের জীবনমান উন্নত করতে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর ছিল একটা অনন্য মাইলফলক। তিনি পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ১৮ বছর পূর্তি উদ্যাপনের লক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তির ধারা বজায় রাখতে তার সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র শান্তির ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। এ শান্তির ধারা আমরা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই। এ উপলক্ষে তিনি পার্বত্য জেলাসমূহের জনগণ ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জাতিগত হানাহানি বন্ধ হয়। অনগ্রসর ও অনুন্নত পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় শান্তি ও উন্নয়নের ধারা। দেশের অখন্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে একটি মহান পদক্ষেপ হিসেবে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির জন্য ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার অর্জন এ চুক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বলে বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বাঙালি-পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। খুন, রাহাজানি, অত্যাচার-অবিচার, ভূমি জবরদখল এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার এ অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে। তিনি বলেন, আমরা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর বিবাদমান সব পক্ষের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। সবাইকে শান্তির পথে ফিরিয়ে আনি। শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়। সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।
বিএনপি-জামাত জোট ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ঐতিহাসিক এ চুক্তির চরম বিরোধিতা করে পার্বত্য অঞ্চলকে পুনরায় অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল কিন্তু তাদের এ হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার পার্বত্য চুক্তির আলোকে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ গঠন করে। তিনি বলেন, সরকার এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সকল খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। উপজাতি নৃগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভূমি বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য জেলাসমূহের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সমুন্নত রাখা ও পর্যটন শিল্পের প্রসারেও তার সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে আজ পার্বত্য জেলাসমূহ কোন পিছিয়ে পড়া জনপদ নয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ অঞ্চলের জনগণ সম-অংশীদার। পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।