কক্সবাজার: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আরো ৪৮ জন অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়।
ফিরে আসা এই অভিবাসন প্রত্যাশীরা সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় মিয়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন।
ম দফায় ফিরে আসা ৪৮ জনসহ মোট ৭৭৭ জন বাংলাদেশিকে ফেরত দিল মিয়ানমার।
বিজিবি সূত্র জানায়, ফিরে আসা ১৩ জেলার লোকজন রয়েছে। এদের মধ্যে কক্সবাজারের ১৯ জন, যশোরের ১২ জন, নারায়ণগঞ্জের ৩ জন, পাবনার ১ জন, খুলনার ১ জন, নোয়াখালীর ১ জন, কিশোরগঞ্জের ১ জন, গোপালগঞ্জের ১ জন, কুষ্টিয়ার ২ জন, সিরাজগঞ্জের ৩ জন ও টাঙ্গাইলের ৪ জন অধিবাসী রয়েছেন।
বুধবার বেলা ১২টা ১০ মিনিটে মিয়ানমারের ঢেকবুনিয়ায় বিজিবির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ওই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবির ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কক্সবাজারস্থ ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার ও মিয়ানমার বিজিপির নেতৃত্ব দেন মিয়ানমার ইমিগ্রেশনের ডেপুটি ডাইরেক্টর সু-নাইন।
এছাড়াও ওই বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন— বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর মো. আমিনুল ইসলাম এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে গত ৮ জুন ১৫০ জন, ১৯ জুন ৩৭ জন, ২২ জুলাই ১৫৫ জন, ১০ আগস্ট ১৫৯ জন, ২৫ আগস্ট ১২৫ জন, ১২ অক্টোবর ১০৩ জনসহ মোট ৭২৯ জন মানবপাচারের শিকার অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশিকে একই প্রক্রিয়ায় মিয়ানমার থেকে দেশে ফেরানো হয়েছে।
পতাকা বৈঠকের পর বিজিবির লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ফলপ্রসু আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত আনা হয়েছে।
তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ঘুমধুম এলাকা হয়ে বাসযোগে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।
ফিরে আসাদের যাচাই-বাছাই শেষে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবারের কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সহকারি পুলিশ (উখিয়া সার্কেল) আবদুল মালেক মিয়া।
কক্সবাজারের বিজিবি সেক্টর কমান্ডার এম আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মিয়ানমারে আটক হওয়া আরো ২০ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশি প্রমাণিত হলে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।