• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন |

প্রতীক পরিবর্তনের দাবি মহিলা কাউন্সিলরদের

নির্বাচনগাইবান্ধা : আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। ৫ ও ৬ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই পর্ব। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ ডিসেম্বর। এরপর ১৪ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।

এবার নির্বাচন কমিশন চুড়ি, পুতুল, চকলেট, গ্যাসের চুলা, ফ্রক, ভেনেটিব্যাগ, কাঁচি, হারমোনিয়াম, মৌমাছি ও আঙ্গুর- সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

কমিশনের নির্ধারিত এসব প্রতীক দেখে চোখ কপালে উঠেছে অনেকের। তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রার্থী ও ভোটারদের পাশাপাশি বিভিন্ন নারী সংগঠনগুলো।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিক্তু প্রসাদ বলেন, ‘এমনিতেই প্রতিটি নির্বাচনে নারীদের রাখা হয়েছে সংরক্ষিত হিসেবে। তারপরও এবার নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রতীকগুলো নারী সমাজের জন্য একেবারে মানহানিকর। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রতীকগুলোতে চোখ বুলালেই বোঝা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগেও নারীদেরকে কতখানি খাটো করে দেখা হয়েছে। এখনো নারীদের পুতুল, ফ্রক, চকলেট এবং ভেনেটিব্যাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কথায় কথায় নারী অধিকার বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবতা যে ভিন্ন তা আবারো প্রমাণিত।’

নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকগুলো পরিবর্তন করার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক রোকেয়া খাতুন বলেন, এসব মার্কার মধ্য দিয়ে নারীদের অসম্মান করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির জায়গা থেকেই নারীদের ব্যবহৃত এবং পুরুষদের সেবা যতেœর বিভিন্ন উপকরণ নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটা নারী সমাজের জন্য চরম লজ্জাজনক। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্র নারীদের প্রতিনিধিত্ব দিতে চায় না।

গাইবান্ধা পৌরসভায় ৪, ৫ ও ৬ ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শামীম আরা মিনা বলেন, এসব প্রতীকের কারণে ভোটাররা নারী প্রার্থীদের নানাভাবে কটাক্ষ করবেন। শুধু তাই নয়, এসব প্রতীকের মধ্য দিয়ে গোটা নারী সমাজকে হেয় করা ছাড়া আর কিছু নয়।

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র ও গেজেটের মাধ্যমে এসব প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে জেলা থেকে করার কিছু নেই।’

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ