• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু

নির্বাচনসিসি নিউজ: আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে। এসব সন্ত্রাসীকে আটকের লক্ষ্যে ২৮ ডিসেম্বর মাঠে নামছে যৌথবাহিনী। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, নির্বাচনকালীন নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। নির্বাচন পর্যন্ত এই অভিযান ব্যাহত থাকবে। ইসির কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে ‘সক্রিয়’ দুই সহস্রাধিক সন্ত্রাসী ও গডফাদারের তালিকাসহ একটি প্রতিবেদন ইসির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ওই গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী-ক্যাডারদের আটক করতে অভিযান পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। এরই আলোকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কমিশন থেকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। তারা সেই মোতাবেক ইতোমধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারীদের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটা আমরা মাঠ প্রশাসনে পাঠিয়ে দেব। যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে পুলিশ প্রশাসন।

কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাসী-ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালিত হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের দুদিন আগে থেকে মাঠে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নামানো হবে। ভোটের পরদিন পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, ব্যাটালিয়ন আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে এই ফোর্স গঠিত হবে। এ হিসেবে এটাকে যৌথবাহিনী বলতে পারেন। এ বাহিনীকে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে করণীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে বলে এই কমিশনার জানান।

এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কমিশনের যৌথ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেন দলমত নির্বিশেষে চিহ্নিত অপরাধী চাঁদাবাজ মাস্তান অস্ত্রবাজ-সন্ত্রাসীদের আইনানুগ ব্যবস্থা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট গ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটগ্রহণের পরের দিন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হবে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ হাজার ২৯জন সন্ত্রাসী পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারে সক্রিয়। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে তার প্রধান রাজিনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক সন্ত্রাসী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঠে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিএনপি’র ১ হাজার ১২১ জন, আওয়ামী লীগের ৫৬১জন ও জামায়াত শিবিরের ২১১ জন, জাতীয় পার্টির ৪ জন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)১ জন, জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)১০ জন ও অন্যান্য ১২১ জন রয়েছেন। এসব সন্ত্রাসীর ৬৩৭ জন আশ্রয়দাতা ও গডফাদার রয়েছে বলে জানানো হয়। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২১১ জন, বিএনপির ৩১২ জন, জামায়াত-শিবিরের ৭৭ জন, পিসিপি ১জন, জেএসএস ১ জন ও অন্যান্য ৩৫ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সক্রিয় সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতির মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখান। নির্বাচনি মাঠে এসব সন্ত্রাসীর কাছে রয়েছে পাইপগান, রিভলবার, বন্দুক, পিস্তল, কাটা রাইফেল। থাকবে দেশীয় অস্ত্রও। নির্বাচনে এসব সন্ত্রাসী ও গডফাদার ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালটবাক্স ছিনতাই ও নাশকতা চালাতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।

গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রতিবেদনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী-ক্যাডারদের আটক করতে অভিযান পরিচালনার সুপারিশ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা যেন কেন্দ্র দখল করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন, পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে বলেও প্রস্তাব রাখা হয়েছে সুপারিশে। সন্ত্রাসী-ক্যাডারদের মদদদাতা ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশনা থাকতে হবে বলে ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ