পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: পার্বতীপুরে জামায়াত, শিবির, বিএনপি ও জঙ্গীদের সহায়তায় মিথ্যা, ভিত্তিহীন তথ্যের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূয়া বা রাজাকার বানানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা হায়দার আলীকে পার্বতীপুরে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেন।
‘পার্বতীপুরে রাজাকারদের দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা’ শিরোনামে গত ২৫ ডিসেম্বর দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম বলেন, গত ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারী মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর হোসেনের নেতৃত্বে বেশ কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধা পার্বতীপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ২৫৪ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে দাবি করে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়, জামুকা, মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সে সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও উন্নয়ন) বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তে সত্যতা না পাওয়ায় অভিযোগ গুলো মিথ্যা প্রতিয়মান হয়েছে বলে গত ২০০৯ সালের ২ জুলাই (স্বারক নং শিক্ষ/গাঃ/২০০৯/৪৬) দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপরও স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত, শিবির, বিএনপি ও জঙ্গী চক্রের সহায়তায় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমুর্তি নষ্ট করতে এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করছেন দৈনিক জনকন্ঠের পার্বতীপুর সংবাদদাতা শিবির কর্মী শ.আ.ম হায়দার আলী।
তিনি বলেন, আগামী ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারী পার্বতীপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই করা হবে। সেখানে যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারবেন তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বলে বিবেচিত হবেন। যাচাই বাছাইয়ের আগে কোন মুক্তিযোদ্ধাকেই ভূয়া বা রাজাকার বলে বিতর্ক সৃষ্টি করা অনভিপ্রেত। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, শ.আ.ম হায়দার আলী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত তৎকালিন কায়দে আজম কলেজে (বর্তমানে সৈয়দপুর কলেজ) লেখাপড়া করার সময় ইসলামী ছাত্র সংঘের রাজনীতির একজন সক্রিয় কর্মি ছিলেন।
প্রকাশিত সংবাদে ২৪ ডিসেম্বর পার্বতীপুর প্রেসক্লাবে কথিত সংবাদ সম্মেলনের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই দিন পার্বতীপুর প্রেসক্লাবে কোন সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং কোন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে আগামী ১০ জানুয়ারী দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করার ঘোষনা দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব সরকার, মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জাল হোসেনসহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।