• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন |

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু

ইজতেমাসিসি নিউজ: তুরাগ নদের তীরে শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।আগামী রবিবার আখেরি মোনাজাতে শেষ হবে তাবলিগ জামাতের এই আয়োজন। পরের  শুক্রবার একইস্থানে হবে দ্বিতীয় পর্ব।

গত বুধবার থেকে গাজীপুর টঙ্গীর তুরাগ তীরের ইজতেমা মাঠে আসতে থাকেন দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে ইতোমধ্যে জড়ো হয়েছেন লাখো মুসল্লি। ক্রমেই মুসল্লিদের স্রোত বাড়ছে। অবশ্য বিদেশি মুসল্লিরা এসেছেন আরো দু-একদিন আগে।

মুসল্লির সংখ্যার বিচারে ইজতেমাকে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েত বলা হয়ে থাকে। সারাদেশ থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ, ব্যক্তিগত গাড়ি, লঞ্চসহ নানা ধরনের যানবাহনে ইজতেমায় আসছেন মুসল্লিরা।

ইজতেমা ময়দানে এলাকা ভিত্তিতে নিজ নিজ খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন মুসল্লিরা। আখেরি মোনাজাতের দিন পর্যন্ত মুসল্লিদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বি গিয়াস উদ্দিন বলেন, শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে কার্যক্রম। আজ দেশের বৃহত্তম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ইজতেমা ময়দানে। তার আগে হেদায়েতি বয়ান করা হবে।

তিনি বলেন, এবার দুই দফায় ৩২ জেলার জামাতবদ্ধ তাবলিগ সদস্যরা বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেবেন। এবার প্রথম দফায় ১৬টি জেলার মুসল্লিরা ও দ্বিতীয় দফায় ১৬টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন।

এবারের দুই দফাতেই ঢাকা জেলার মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন। বাকি ৩২ জেলার জামাতবদ্ধ মুসল্লিরা আগামী বছর ইজতেমায় অংশ নেবেন। তবে জামাতবদ্ধ তাবলিগ সদস্য ছাড়াও সাধারণ মুসল্লিদের ইজতেমায় অংশ নিতে বাধা নেই বলে জানান গিয়াস উদ্দিন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন-অর রশীদ বলেন, ইজতেমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকছেন পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১২,০০০ সদস্য। পাঁচ স্তরের এ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ইজতেমা এলাকা ঢেকে রাখা হবে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহেনুল ইসলাম বলেন, টঙ্গীর ইজতেমাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ইজতেমা চলাকালে প্রতিদিন তিন পালায় সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ এবং যান চলাচল কাজে চারটি এবং হোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাবার দোকানের খাবারের মান ও মেয়াদ যাচাইয়ের জন্য আরো ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে ইজতেমা উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে নিয়মিত ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মুসল্লিদের চাপ কমাতে ২০১১ সাল থেকে ইজতেমাকে দুই পর্বে বিভক্ত করা হয়। পরে প্রত্যেক বছর এভাবেই ইজতেমা হয়ে আসছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ