সিসি নিউজ : সরকার ঘোষিত অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল সংশোধনের কোন সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
তিনি বলেন, ‘তবে দুয়েকটা বিষয় সমন্বয় করা হতে পারে।’
সম্প্রতি চীন সফর শেষে দেশে ফিরে এ বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একাধিক পেশাজীবী গোষ্ঠীর দাবি ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঘোষিত ‘পে-স্কেল সংশোধনের ন্যূনতম সুযোগ রয়েছে কি না’ সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে – জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নো, পে-স্কেল সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই।’
মুহিত বলেন, ‘শিক্ষকদের ব্যাপারে আমার কোন মন্তব্য নাই। তারা শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছেন। আমি অপেক্ষা করছি।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলনকে ‘অজ্ঞতাপ্রসূত’ বলে আবারও দাবি করে তিনি বলেন, ‘এসব আন্দোলন ভিত্তিহীন। এগুলোর গ্রহণযোগ্যতাও নেই। তারা বিষয়টি ইগনোর করেছেন, ভাল করে পড়ে দেখেন নি।’
প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির আন্দোলনকেও ‘অযৌক্তিক’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের (প্রকৃচি) কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আমাদেরও একটু দোষ ছিল। একটি জায়গায় পরিষ্কার করা উচিত ছিল। অর্থ সচিবের সঙ্গে সমাধানের জন্য কথা হয়েছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাডার-নন-ক্যাডারদের গ্রেডিং-এর বিষয়ে এবং ব্যাংকারদের বিষয়ে আমাদের কিছু ভুল ছিল। সচিব সভায় এটা ঠিক করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গ : চীন সফর
চীন সফরে চীনের উদ্যোগে নব গঠিত ‘এশিয়ান ইনফাসট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)-এর প্রথম বোর্ড সভায় যোগদানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথম সভায় বাংলাদেশকে অনেক সম্মান দেখানো হয়েছে। চীন বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্পে তারা অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এআইআইবি থেকে বাংলাদেশ বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বৃহৎ অঙ্কের ঋণ নিতে পারবে। ইতোমধ্যে তাদেরকে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তালিকা দেওয়া হয়েছে। তবে এখান থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্প বাছাইয়ে আমাদেরকে অধিক সতর্ক হতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, ‘এআইআইবির প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে অর্থায়ন করা। এখান থেকে বাংলাদেশ ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে পারবে। এক্ষেত্রে ঋণের গ্রেস পিরিয়ড হবে ৮ থেকে ১২ বছর এবং সুদ হার হবে ১ থেকে ২ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা হবে ৩০ থেকে ৪০ বছর। এআইআইবির কাছ থেকে রেল ও সড়কের একটি প্রকল্পের প্রথম ঋণ পাওয়া যাবে।’
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের অনুসমর্থন (রেটিফিকেশন) নিতে না পারায় এআইআইবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে ইনটেন্ডিং সদস্য অবজারভার হিসেবে রয়েছে। তবে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ এর সদস্য হতে পারবে।’
আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে মুহিত বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপের অত্যন্ত উত্তম প্রমাণ হচ্ছে-তারা আমাদের জিএসপি সুবিধা খারিজ করে রেখেছে। তারা আমাদের ডিউটি ফ্রি সুবিধা ও কোটা সুবিধা দেয় না কোন সময়ই। শধু তাই নয়, তাদের বিশেষ সহায়তা তহবিল থেকে তো তারা এক পয়সাও দেয় না।’