• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন |

১২ বিলিয়ন ডলারের তথ্য দিতে রাজি মুসা

মুসাঢাকা: সুইস ব্যাংকে নিজের হিসাব নম্বর এবং এ-সংশ্লিষ্ট তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দিতে সম্মত হয়েছেন ব্যবসা জগতের ‘রহস্য পুরুষ’ ও ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুসা বিন শমসের।

দুদকের কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক কমিশনার বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে মুসা সংশ্লিষ্ট সব তথ্য দুদককে সরবরাহ করবেন। এ ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া কিংবা তথ্য দিতে অসহযোগিতা করলে আইনি ব্যবস্থা নেবে দুদক।’

এর আগে বেলা ১১টা থেকে একটা পর্যন্ত মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি দুদককে সব তথ্য দিয়েছেন।’

সুইস ব্যাংকে ‘জব্দ’ ১২ বিলিয়ন ডলার প্রসঙ্গে মুসা বলেন, ‘অনিয়মিত লেনদেনের কারণে ওই অর্থ জব্দ অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে সেখানকার আদালতে মামলা চলছে।’

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুসা দাবি করেন, তিনি স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন না। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর বাড়িতেই ছিলেন। এরপর ফরিদপুর চলে যান। ২১ এপ্রিল তাকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করে। ৯ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি পান।

মুসার দাবি, মৃতপ্রায় অবস্থায় পাকিস্তানি বাহিনী তাকে মুক্তি দেয়।

এর আগে দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান চালিয়ে সুইচ ব্যাংকে মুসার ১২ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি প্রায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) আটকে থাকা হিসাব নম্বর জানতে পারেনি দুদক। এজন্য গতবছর ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় তাকে তলব করা হয়।

সে অনুসারে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা কথা ছিল। তবে, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় আবেদন করলে আজকের এই দিন দিয়েছিল দুদক।

২০১৫ সালের ৭ জুন দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন মুসা বিন শমসের। সম্পদ বিবরণীতে তিনি সুইচ ব্যাংকে তার ১২ বিলিয়ন ডলার ফ্রিজ অবস্থায় থাকার কথা উল্লেখ করেন।

সুইচ ব্যাংকে ৯০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের (বাংলাদেশি প্রায় ৭০০ কোটি টাকা) অলংকার জমার তথ্য দিয়েছেন তিনি। এছাড়া দেশে তার সম্পদের মধ্যে গুলশান ও বনানীতে দুটি বাড়ি, সাভার ও গাজীপুরে ১২০০ বিঘা জমির কথাও বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে মুসার বিরুদ্ধে স্বনামে/বেনামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেলে ২০১৫ সালের ১৯ মে তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করে কমিশন।

প্রিন্স মুসার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই সময় বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস’র প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে এ অনুসন্ধান শুরু করা হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে দুদকের ওই অনুসন্ধান আলোর মুখ দেখেনি।

তিন বছর পর ২০১৪ সালের শেষের দিকে ‘বিজনেস এশিয়া’ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে অবারো নতুন করে মুসার সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক।

২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর দুদকের ওই কর্মকর্তাকে এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই বছরের ৪ ডিসেম্বর মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠায় দুদক। ১৮ ডিসেম্বর হীরার জুতা থেকে শুরু করে আপাদমস্তক মূল্যবান অলঙ্কারে সজ্জিত হয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হন প্রিন্স মুসা। সঙ্গে ছিল নারী-পুরুষের ৮০ জনের এক দেহরক্ষী বহর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ