ঢাকা: পদ্মাসেতু দিয়ে ২০১৮ সাল নাগাদ যান চলাচল করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘পদ্মাসেতু নির্মাণের যে ব্যয় হচ্ছে, তার সবটাই এদেশের জনগণের। কারো সাহায্যে আমরা এই সেতু করছি।’
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরকালে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ বাংলার মানুষের সঙ্গে সারাদেশের মানুষের যোগাযোগ সহজ করা এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লক্ষ্যে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পে ব্যয় হবে মোট ২৮,২৯৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬,০০০ টাকা।’
পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে এবং ২০১৮ সাল নাগাদ এ সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জনগণের টাকা যাতে জনগণের কাজে ব্যয় হয় এজন্য এলাকার উন্নয়নকাজ তদন্ত করে পাই পাই হিসাব নেয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, এই প্রকল্পের প্রতিটি রড, ইট, পাথর, সিমেন্ট জনগণের টাকায় কেনা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পদ্মা নদীর উপর সেতু নির্মাণে বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্নটি পূরণ হতে চলেছে।
প্রকল্পটির শুরুতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তা প্রমাণ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পে জনগণের টাকার পুরোপুরি সদ্ব্যবহার হয়েছে এবং হচ্ছে। যে কারণে এর বাস্তবায়নও অনেক বেগবান হচ্ছে।
এ সময় তিনি এমপিদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ব্যয় করা অর্থ তদারকি করা এবং এসব প্রকল্পে ব্যয় করা অর্থের প্রতিটি পাই তদন্ত করে দেয়ার আহ্বান জানান।
জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আনীত অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে কথিত দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক এক পর্যায়ে এ প্রকল্পে পুনরায় ফিরে আসার ঘোষণা দিলেও নতুন নতুন শর্ত আরোপ করে দীর্ঘসূত্রতার পথ অবলম্বন করায় আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাদের ঋণ গ্রহণ না করে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।