• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন |

রুহিয়া বিএম কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

অনিয়মঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও রুহিয়া টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকরা ওই শিক্ষকের অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা যায, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজটি সদর উপজেলার মধূপুর গ্রামে অবস্থিত। কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা মাহমুদ মিলন গত ২০০৩ সালের ২৮ জানুয়ারী ওই কলেজে যোগদান করেন। ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সম্পন্নরা অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের বিধান থাকলেও তার ক্ষেত্রে সে নিয়ম পালন করা হয়নি। কাম্য যোগ্যতা না থাকার পরও তিনি প্রারম্ভিক স্কেল তথা গ্রেড ৯ বেতন ভাতা উত্তোলন না করে ২ ধাপ উপরের স্কেলে তথা ৭নং গ্রেড অনুয্য়াী বেতন ভাতা উত্তোলন করেন। এতে ২০০৩ সাল হতে জানুয়ারী”২০১২ পর্যন্ত সরকারি কোষাগার হতে কয়েক লক্ষাধিক টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করে আত্বসাৎ করেন।

ওই কলেজের ইংরেজি প্রভাষক সাজিয়া আক্তার ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর গ্রীনকার্ড ধারী স্বামী সহ আমেরিকা গমন করেন। তিনি আর দেশে ফিরেননি। কিন্তু অধ্যক্ষ মিলন প্রবাসী সাজিয়ার স্বাক্ষর জাল করে নভেম্বর ২০১১ হতে আগষ্ট ২০১২ পর্যন্ত মাসিক ১০৭১৫/- টাকা হারে বিল প্রস্তুত করে ব্যাংকে প্রেরন করেন এবং ওই টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

সহঃ অধ্যাপকের স্তরে পদায়নের ক্ষেত্রে ৫:২ নিয়ম পালনের বিধান থাকলেও মোছাঃ ফারজানা ববি নামে একজন শিক্ষিকার ক্ষেত্রে সে নিয়ম মানা হয়নি। অধ্যক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে অবৈধভাবে তাকে পদায়নের সুপারিশ করা হয়।

কারিগরী বোর্ডের বিধান অনুযায়ী কোন কলেজে নিয়মিত কমিটি না থাকলে জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে কমিটির সভাপতি হবেন। কিন্তু অধ্যক্ষ মিলন তার অবৈধ কর্মকান্ড বৈধতা পেতে জনিক আশরাফুল ইসলামকে সভাপতি বানিয়ে বেশ কিছুদিন কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কলেজের উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে প্রকল্প কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও অধ্যক্ষ মিলন স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কলেজের মাঠ ভরাট ও গেট নির্মান কাজ করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন।

ইতোমধ্যে ওই কলেজে (ইংরেজি বিষয়ে আশরাফি,বাংলা বিষয়ে আইয়ুব খান,হিসাব বিষয়ে নূর নেছা ও কম্পিউটার অপারেশন বিষয়ে নাজমুল হুদা) নামে ৪ জনকে মোটা অংকের ডোনেশন গ্রহন করে নিয়োগ দিলেও ডোনেশনের টাকায় কলেজের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি।

এতেই শেষ নয়, অধ্যক্ষ মিলনের লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে রমেনা বেগম নামে এক গৃহবধূ সংসার হারিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছে। অধ্যক্ষ মিলন ওই গৃহবধূকে নিয়ে প্রায় ১ বছর ঢাকায় স্বামী স্ত্রী সেজে বসবাস করে। কিন্তু পরে ওই মহিলা তার স্বামীকে তালাক দিলেও মিলন তাকে বিয়ে করেনি। বর্তমানে ওই গৃহবধূ স্বামীর সংসার হারিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছে। এর পূর্বে অবৈধভাবে সহকারি অধ্যাপক (এপি) নির্বাচন দেওয়ায় সুবিধাভোগী শিক্ষিাকার সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করতে গেলে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জনতার হাতে ধরা পড়ে অধ্যক্ষ মিলন। স্থানীয় অভিভাবকরা ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মিলন জানান, তার বিরুদ্ধে কয়েকজন ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তা সম্পূর্ন মিথ্যা।
অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের ডিডি সালাউদ্দীন আহম্মদ ও এডি রেজাউল করিম গত জানুয়ারী মাসে ওই কলেজ সরেজমিনে তদন্ত করেন।

এদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আঃ মোমিন অধ্যক্ষ মিলনের অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ