ঢাকা: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে এখনই একটি গ্রহণযোগ্য ‘নির্বাচনী পন্থা’ (ম্যাকানিজম) বের করার তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
শুক্রবার বিকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ঢাকা সফররত ইরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল তাদের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে এ তাগিদ দেন।
ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের এশিয়া বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জে ল্যামবার্ডের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত বুধবার থেকে বাংলাদেশ সফরে রয়েছে।
সফরকালে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রতিনিধি দলের প্রধান ল্যামবার্ড।
সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার, শ্রমমানের অগ্রগতি, ব্লগার ও মুক্তমনা লেখকদের নিরাপত্তা, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বৈশ্বিক সন্ত্রসাবাদ দমন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন। তারা তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন।
ল্যামবার্ড বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে জাতীয় ঐক্যমত প্রয়োজন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যত দ্রুত আলোচনা শুরু হবে, ততই মঙ্গল। এজন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তাদেরকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে ল্যামবার্ড বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। তাই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ল্যামবার্ড বলেন, সরকারের সঙ্গে মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ব্লগার হত্যাসহ নানা বিষয়ে কথা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায়, বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকুক। সরকারও বলেছে তারা এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করে না।
পোশাক শিল্পের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অনেক উন্নয়ন ঘটেছে। ইইউ পোশাক খাতের উন্নয়নে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে।