সিসি ডেস্ক: বেসরকারিভাবে আমদানি করা ১৫০০ সেডান গাড়ি পুলিশকে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমান। এই নিয়ে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিকারক, রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মোহম্মদ শরীফ জানান, প্রথমতো বাণিজ্যিকভাবে আমদানি করা গাড়ি সরকার এভাবে বিক্রি করতে পারে না। দ্বিতীয়ত সরকার গাড়িগুলোর দাম নির্ধারণ করছে আমদানি মূল্যের উপর। আমদানি করা দামে গাড়ি বিক্রি করলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে কীভাবে। তাছাড়া আমদানি করার সময় ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে তার সুদ দিতে হয়েছে। এই সুদও আমদানি মূল্যের উপর ধরা হয়নি। তারা বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাবে বলে জানিয়েছেন।
গাড়ি আমদানিকারকদের সূত্রে জানা যায়, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ঢাকায় ট্যাক্সি ক্যাব নামাতে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিকারকদের গাড়ি আমদানি করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি সেসময় বলেন, ট্যাক্সিক্যাব হিসাবে চালু হবে- এই শর্তে গাড়িগুলো আমদানি করা হলে সেগুলোতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে। তার মৌখিক আশ্বাসে বারভিডার আমদানি কারকরা জাপান থেকে টয়োটা ও নিশান ব্র্যান্ডের ১৫০০ গাড়ি আমদানি করেন। পরবর্তী সময়ে আবুল হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লে তার পরিকল্পনাও বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তী মন্ত্রী এসে কয়েকটি কোম্পানিকে ঢাকার রাস্তায় গাড়ি নামনোর জন্য অনুমোদন দিলেও আগের আমদানি করা গাড়িগুলো তারা ক্রয় করেনি। অনুমোদনপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলো নিজেরাই গাড়ি আমদানি করে রাস্তায় নামায়। ফলে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিকারকদের দুই দফায় আনা ১৫০০টি গাড়ি মংলা পোর্টে আটকা পড়ে যায় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে এনবিআরের একজন সদস্য জানিয়েছেন, গাড়িগুলো মংলাবন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে রয়েছে। আমাদের কাজ হলো গাড়িগুলোর শুল্কায়ন করা। আমদানিকারকরা গাড়িগুলো ছাড় করছে না। তারা গাড়ি ছাড় না করে হাইকোর্টে মামলা দিয়ে তা আটকে রেখেছে। ৯০ দিনের বেশি পোর্টে আটকা থাকলে গাড়িগুলো নিলাম করার বিধান রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ থাকায় এগুলো নিলাম করা যাচ্ছে না। পুলিশ গাড়িগুলো কিনতে চেয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীদের বলেছি আপনারা গাড়িগুলো ফেলে না রেখে বিক্রি করে দিন। কারণ অনেক গাড়িই বন্দরে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গাড়ির ব্যাংক ঋণ সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জানান, এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে। গাড়িগুলোর বিপরীতে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে। এরমধ্যে আমদানিকারকরা ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। গাড়িগুলো দীর্ঘদিন যাবৎ খালাস হচ্ছে না। একারণেও ব্যাংক ঋণের বিপরীতে অনেক সুদ জমা হয়েছে। আমরা এগুলো নিয়ে রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেছি।