কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীদ্বীপ ও সাবরাং এলাকায় পৃথক এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে নিহত দুইজন হলেন শাহপরীরদ্বীপ ৭নং ওয়ার্ডের মাঝের পাড়ার মোহাম্মদ দুদু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শফিক এবং সাবরাং এলাকার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর হোসেন মেম্বারের আপন ভাই আব্দুল গফুর।
টেকনাফের একাধিক সূত্র মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করলেও আইন-শৃংখলা বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র গুলো মতে, শাহপরীরদ্বীপের ৭নং ওয়ার্ডে দুই মেম্বার প্রার্থী নুরুল আমিন ও সেলিম উল্লাহ মেম্বারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশও এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাঝের পাড়ার দুদু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শফিক মারা যান।
সূত্র আরো জানয়, ভোট গণনাকালে নুরুল আমিন বেসরকারিভাবে মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষ প্রার্থী সেলিম উল্লাহ মেম্বারের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে যান।
ওই কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল নিশ্চিত হওয়া না গেলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, নুরুল আমিন ৯৪৯ ভোট ও প্রতিদ্বন্ধি সেলিম উলস্নাহ মেম্বার ৯৪৫ ভোট পান। ৪ ভোটের এই ব্যবধানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়।
অন্যদিকে সাবরাং ইউনিয়নের সাবরাং মণ্ডলপাড়া কেন্দ্রের ফলাফল কেন্দ্রে ঘোষণা না করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও যুবলীগ নেতা নুর হোসেনের সমর্থকরা ব্যারিকেড দিয়ে কেন্দ্রেই ফলাফল ঘোষণার দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ওই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি চালালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুর হোসেনের আপন ভাই আব্দুল গফুর গুরুতর আহত হন। তাকে টেকনাফ হাসপাতাল হয়ে কক্সবাজার আনার পথে মারা যান।
সূত্র আরো জানায়, এই ঘটনায় আরো অন্তত ২০ জন আহত হন।