• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

দশ ট্যানারি মালিককে হাইকোর্টে তলব

হাইকোর্টসিসি নিউজ: রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তরে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ না করার ব্যাখ্যা জানতে দশ ট্যানারি মালিককে ১০ এপ্রিল তলব করেছেন হাইকোর্ট। ঐদিন স্বশরীরে তাদেরকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত  হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

১০ ট্যানারি কারখানা হলো- ১. রানা লেদার ২. জুলেট এন্টারপ্রাইজ ৩. পূর্বালি ট্যানারি ৪. রুমি লেদার ৫. সালাম ট্যানারি ৬. করিম লেদার ৭. মহিন ট্যানারি ৮. লক্ষ্মীপুর ট্যানারি ৯. এশিয়া ট্যানারি এবং ১০. প্যারামাউন্ট ট্যানারি।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, হাই কোর্ট ২০০১ সালে এক রায়ে ট্যানারি শিল্প হাজারিবাগ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়। এরপর ২০০৯ সালের ২৩ জুন আদালত আরেক আদেশে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।

সরকারপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরে ওই সময়সীমা কয়েক দফা বাড়ানো হয়। ওই সময় শেষ হয় ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল। এরপরও ট্যানারি স্থানান্তর না করায় পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাল্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল হাই কোর্ট রুল দেয়। পরে ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল আদালত শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়। তিনি আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যাও দেন।

বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও ওই দশ প্রতিষ্ঠান হাজারীবাগ থেকে সাভারে কারখানা স্থানান্তরের পদক্ষেপ না নেওয়ায় মালিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারির আরজি জানান আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এর ধারাবাহিকতায় গত বছর ১১ অগাস্ট হাই কোর্ট ওই দশ কারাখানা মালিকের বিরুদ্ধে রুল দেয়। কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

এরপর দশ প্রতিষ্ঠানের মালিকের ব্যক্তিগত হাজিরা চেয়ে ২১ মার্চ আবেদনকারীপক্ষ নতুন আবেদন করে, যা বুধবার শুনানির জন্য ওঠে।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যেসব ট্যানারি হাজারীবাগ ছাড়বে না, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আর কোনোভাবে ট্যানারি সরাতে না পেরে ৩১ মার্চের পর হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া ঢোকার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মনজিল মোরসেদ বলেন, সরকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরাতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। এই মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও দশ কারাখানা মালিক পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে হাই কোর্ট তাদের প্রতি অবমাননার অবমাননার রুল দিয়েছিল। এবার তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ