ঢাকা: অবশেষে সন্ধান মিললো তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহার। গত বুধবার মধ্যরাতে ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে জোহাকে গাড়িতে তুলে নেয়া হয়।
এরপর মঙ্গলবার রাতে তাকে বিমানবন্দর থানা এলাকায় পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এক সপ্তাহ তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন তা জানা যায়নি।
জোহার চাচা মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, গতরাত আনুমানিক একটা থেকে দুটার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জোহাকে তাদের কলাবাগানের বাসায় পৌঁছে দেন।
তিনি বলেন, ‘সম্ভবত ডিবির লোক ছিল তারা। তারা বললেন, জোহাকে এয়ারপোর্ট এলাকায় উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে দেখে তারা সনাক্ত করেন।’ তিনি আরো বলেন, জোহাকে এ ব্যাপারে এখনো কিছু জিজ্ঞাসা করেন নি তারা।
‘তাকে আমরা বিশ্রামে রেখেছি। তার মানসিক স্থিতি সবার আগে প্রয়োজন।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনায় গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন তানভীর হাসান জোহা, যিনি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইনসাইড বাংলাদেশ ফাউনডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান।
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের ইঙ্গিত দেন। এরপরই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে আইনী সহায়তা চাইতে গেলে তিনটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থল তাদের এলাকায় নয় বলে ফিরিয়ে দেয়।
জোহার শ্যালক মাহমুদ হাসান চৌধুরী বলেছিলেন, নিখোঁজের পর কেউ পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেনি। নিখোঁজের পর থেকে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথম থেকেই তাকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোহা জানান যে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘সাইবার নিরাপত্তা’ প্রকল্পে কাজ করতেন।