সিসি ডেস্ক: ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথে চলন্ত ট্রেনে আবারো পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ঘটেছে। শনিবার বিকেলে ঢাকা কমলাপুর ষ্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সুর্বণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফেনী স্টেশন ছেড়ে আসার পরপরই দুর্বৃত্তরা পাথর নিক্ষেপ করে। এতে বন্ধ জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ‘ঙ’ বগি’র যাত্রী সরওয়ার জামান শাওন (২৭) আহত হন।
একই বগির যাত্রী ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হাসান আল মাহমুদ জানান, আমাদের ট্রেনটি ফেনী স্টেশন ছেড়ে আসার পরপরই হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনের কাঁচ ভেঙ্গে পাথরটি আমার পাশের যাত্রী কলেজ ছাত্র শাওনের ঘাড়ে আঘাত করে। এতে ছাত্রটি প্রচণ্ড আঘাতে আহত হন এবং রক্তাক্ত হয়ে পড়ে। এসময় ট্রেনটিতে ফাস্ট এইডের কোন ব্যবস্থা ছিল না। ফলে রক্ত বন্ধ করা যাচ্ছিল না। পরে ওই বগিতে থাকা একজন চিকিৎসকের সহায়তায় রক্ত বন্ধ করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
আহত যাত্রী সরওয়ার জামান শাওন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ বরমা কশুয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ সৈয়দের ছেলে এবং গাছ বাড়িয়া কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি জানান, ঘটনার পর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন রেল পুলিশ আমাদের বগিতে কাঁচ ভাঙ্গার ব্যাপারে কৈফিয়ত চায়। তখন বগির যাত্রীরা পাথর মারার কারণে একজন যাত্রী আহত হয়োর কথা জানালেও তিনি এ ব্যাপারে কর্ণপাত না করে কাঁচভাঙ্গা নিয়ে বার বার কৈফিয়ত চাইতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় ট্রেনটি চট্টগ্রাম আসার পর ট্রেন থেকে নেমে তিনি চিকিৎসা নেন।
এ ব্যাপারে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিমাংশু দাশ রানা জানান, রাতে সুবর্ণ এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপের কারণে একজন যাত্রী সামান্য হয়েছে বলে নিরাপত্তা কর্মীরা আমাদের কাছে রিপোর্ট করেছে। কিন্তু সে যাত্রী আমাদের কাছে কোন ধরনের অভিযোগ করেনি।
তিনি জানান, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে রেলের পক্ষ থেকে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। বেশ কিছু দিন পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বন্ধ থাকলে সম্প্রতি আবার দু’একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ ব্যাপারে ঝঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়িয়েছি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১০ আগষ্ট সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় চলন্ত ট্রেনে পাথরে আঘাতে প্রীতিদাশ নামে একজন নারী প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় এ ঘটনা বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। ২০১৪ সালের ২৩ মে সীতাকুণ্ড স্টেশনের কাছে একই ঘটনায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা অরূপ চক্রবর্তীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়।