আজমল হক আদিল,বদরগঞ্জ (রংপুর) : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত ডাক্তরা এখন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তারা অতিরিক্ত টাকা আয় করার আশায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগীদেরকে জোর পুর্বক তাদের (ডাক্তারের মনোনিত) নির্দিষ্ট ক্লিনিকে পাঠিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা কমিশন। অথচ, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার শংকট থাকায় কর্তৃপক্ষ ওই সব অসাধু ডাক্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেনা।
জানা যায়, সম্প্রতিকালে ডাক্তারের অবহেলায় দুই দুটি রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় আন্দোলনরত এলাকাবাসীর চাপের মুখে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডাক্তারের পদ শুণ্য হয়ে পড়ে। ৩১শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ডাক্তার রয়েছে এমবিবিএস ৫জন ও উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ৫জন। তাদের মধ্যে ডাঃ নারায়ন চন্দ্র (এমবিবিএস)ও উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফাতেমাতুজ জোহরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে রোগী দেখার পরিবর্তে অতিরিক্ত অর্থ কামানোর আশায় নির্দিষ্ট ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের ভাবনায় মশগুল থাকেন। সে কারণে দিনদিন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের প্রতি রোগীরা চিকিৎসা সেবায় আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এ বিষয়ে উপজেলার ময়নাকুড়ি গ্রামের সাহারা বেগম জানান, সম্প্রতিকালে বুকের ব্যথায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই। সেখানে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফাতেমাতুজ জোহরা আমার শারীরিক পরিক্ষার জন্য আমাকে বদরগঞ্জ পৌরশহরের “হেলথ কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে” যাওয়ার জন্য চাপ দেন। এমন কি তিনি তার প্রেসক্রিপশনে “হেলথ কেয়ার ডায়াগনষ্টি সেন্টার” লিখে দেন। তবে আমি অন্য ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে পরিক্ষা নিরক্ষা করেছি। কারণ হেলথ কেয়ার সকল পরিক্ষায় অতিক্তি টাকা নেয়। আমি গরীব মানুষ তাই অন্য যায়গা (ডায়াগনষ্টি সেন্টার) থেকে কম টাকায় শারীরিক পরিক্ষা করিয়েছি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন….
সদ্য যোগদানকারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম বলেন; এই বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ কিংবা নির্দিষ্ট প্রমান পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।