• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন |

চিলমারীর নারী শ্রমিকরা এখনও বৈষম্যের শিকার

photo chilmari-6-3-15হাবিবুর রহমান চিলমারী (কুড়িগ্রাম) : অনেক আগে থেকেই এ উপজেলার নারীরা বিভিন্ন কাজের সাথে জরিত থাকলেও এখনো তারা বৈষম্যের শিকার। খুব ভোরে উঠে সংসারের কিছু কাজ সেরেই শুকনা মরিচ বা কাঁচামরিচ ভেঙ্গে পান্তাভাত খেয়ে স্বামী সন্তান দের খোঁজ খবর নিয়ে পুরুষদের আগেই কাজে আসতে হয় মহিলা শ্রমিকদের। তাদের সারাদিন হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনি এবং পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হয়। তারপরও পুরুষের তুলনায় মজুরি পায় অনেকাংশ কম। ইসমোতারা(৩৫), আলেয়া(৩০) রুজিনা(২৮) সাহেরবানু সহ ১০ জনের একটি দল। এছাড়াও এদের মত অনেকে দল করে অনেকে দু’চার জন মিলে দু‘বেলা দু’মুটোখেয়ে বেঁচে থাকার জন্য এরা জীবন সংগ্রামে নেমেছে। দারিদ্র্যকে হটিয়ে ক্ষুধাকে মোকাবেলা করার জন্য বেঁছে নিয়েছে শক্ত কঠিন কাজ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তার মাটি কেটে রাস্তা ঠিক করতে হয়। কেউ মাটিতে কোদাল চালায় কেউ ডালিতে করে মাটি এনে রাস্তায় ফেলে আবার কেউ দুরমুজ মেরে রাস্তা সমান করে। তাদের কাটা মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে নুতুন নুতুন রাস্তা। আর এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার মানুষ। নারী শ্রমিকরা উপজেলার বাধেঁর রাস্তার পার্শে, অবদা বাধেঁ, কেচি রাস্তার পাশে বসবাস করে। এরা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর বিভিন্ন রাস্তাঘাট নির্মান ও সংস্কারের কাজ করে থাকে। এসব মহিলা শ্রমিক একজন পুরুষ শ্রমিকের মতোই সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়েও মহিলা বেশি কাজ করে থাকে। কিন্তু মজুরির ক্ষেত্রে তাদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়। অথচ প্রতিনিয়ত এভাবে নারী শ্রমিকদের ঠকানো হলেও কেউ তাদের পাশে এসে দাড়িঁয়ে ন্যায্য পাওনা আদায়ের ব্যাপারে সোচ্চার ভূমিকা রাখেনি। অপর দিকে জেলার চিলমারী উপজেলায় শ্রমিক হিসেবে মহিলাদের কদর অনেক বেশি। কারন মহিলা শ্রমিকরা কাজে ফাঁকি দেয় না এছাড়াও পুরুষ শ্রমিকদের চাইতে মহিলা শ্রমিক দের মজুরিরও কম। তারা কাজও করে বেশি। এসব মহিলারা মাটিকাটা, রাস্তা মেরামত, পুকুর খনন, জমিতে ধান লাগানো ধান বোনা, ইটভাটার কাজ সহ বিভিন্ন বাড়িতে গৃহপরিচালিকা কাজ ছাড়াও অনেক রকম কাজ করে। শুধু তাই নয় এরা দিন মজুর স্বামীকে সহযোগিতা করা ছাড়াও অনেক নারী পুরা পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে আসছে। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এসব নারী শ্রমিক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও তারা কাজ শেষে মজুরি পায় পুরুষ শ্রমিকের তুলোনায় অনেকাংশে কম শুধু তাই নয় নারী দের কাজও করতে হয় বেশি কর্তিপক্ষের বকা ঝকাও খেতে হয় বেশি। মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মোছাঃ ছকিনা বেগম জানান, নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার হতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ