দিনাজপুর প্রতিনিধি : ‘অধিকার, মর্যাদায় নারী-পুরুষ সমানে সমান’ এবং ‘ক্ষমতায়িত নারী, জাগ্রত বিবেক, দুর্নীতি রুখবেই’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। এ সব আয়োজনের মধ্যে ছিল র্যালি, আলোচনা সভা, মানববন্ধন ইত্যাদি।
মঙ্গলবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সনাক ও স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের যৌথ অংশগ্রহণে সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে বর্ণাঢ্য এক র্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিল্পকলা একাডেমীতে গিয়ে শেষ হয়। রঙবেরঙের ফেষ্টুন, ব্যানারে সজ্জ্বিত ও নানান শ্লোগানে মুখরিত র্যালিতে শতশত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে।
র্যালি শেষে শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. আবু রায়হান মিয়া’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমীন। আন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, সদর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন আরা জোসনা, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক জিনাত আরা, এমবিএসকে’র নির্বাহী প্রধান মিসেস রাজিয়া হোসেন, সনাকের ইয়েস সদস্য মেহনাজ খাতুন প্রমূখ।
জেলা প্রশাসক বলেন, নারী শিক্ষার অগ্রগতি, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশে অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে। আমাদের আরও এগুতে হবে। আর এর জন্য সস্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। আমাদের দেশের প্রতিটি সেক্টরে নারীদের অংশগ্রহণ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ প্রশাসন হতে শুরু করে বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীতেও নারীর অংশগ্রহণ শুরু হয়েছে। আমরা আশাবাদী পর্যায়ক্রমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, আমরা যদি আমাদের মা-বোনের দিকে তাকাই তাহলে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ অনেকাংশে বেড়ে যাবে তাতে নারী নির্যাতন ও অন্যান্য নির্যাতন একবারেই কমে আসবে। ধীরে ধীরে সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত হচ্ছে আরও হবে।
আলোচনায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশে প্রতিবছর কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ অনেকাংশে বেড়েই যাচ্ছে যা আমাদের আন্দোলনের ফল। বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর অধিকার আদায়ে বিশ্বের দরবারে প্রসংশা কুড়িয়েছে। তবে দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিত হলে নারীরা আরও অনেক এগিয়ে যেত। এক্ষেত্রে দেশের সরকারসহ আমাদের সকলের উচিৎ তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া।
র্যালি ও আলোচনা সভায় ব্র্যাক, পল্লীশ্রী বালুবাড়ী, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, প্লান ইন্টারন্যাশনাল, আরডিআরএস, এমবিএসকে, উদ্যোগ, সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র, এসইউপিকে, বিকশিত রানী নেটওয়ার্ক, অন্যন্যাসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ কয়েকশ’ নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।