• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

কারাবন্দি ১৫ শিক্ষককে বেতন দিয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন কর্মকর্তারা

আটকসিসি ডেস্ক: নাশকতা মামলায় কারাবন্দি যশোরের কেশবপুরের ১৫ শিক্ষককে সম্পূর্ণ বেতন-ভাতা দেয়ায় অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে  যাচ্ছে সরকার।

জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত কেশবপুরের এসব শিক্ষকদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ বন্ধ করার  উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধান, ম্যানেজিং কমিটির প্রধান, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার। কিন্তু তাঁরা কেউই যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়ায় শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন।

১১টি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বেতন-ভাতা নেয়ার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

এছাড়াও শিক্ষকদের মামলার সর্বশেষ অবস্থা কি তার কাগজপত্র, সাময়িক বরখাস্ত থাকায় মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে তাঁদেরকে পুনঃবহাল করা হলো, বরখাস্তকালীন তাঁদেরকে কিভাবে-কি হারে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ প্রদান করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁদেরকে কিভাবে- কি হারে বেতন ভাতার সরকারি অংশ প্রদান করা হচ্ছে এ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্রের মূলকপিসহ এক সেট ফটোকপি চেয়েছে অধিদপ্তর। এতে ফেঁসে যাচ্ছেন কয়েকজন কর্মকর্তা, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

যশাের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো আলাদা চিঠিতে এ নির্দেশ দিয়েছেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহছেনা বেগম। একটি জাতীয় দৈনিকে গত ২৩ মার্চ প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে ৩০ মার্চ এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চিঠির অনুলিপি শিক্ষা সচিব ও যশোর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জামাত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতা ও নোট-গাইড কোম্পানির কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যে যশোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির হোসেনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোহছেনা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠি অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন- কেশবপুর বাহরুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক তবিবুর রহমান, এস.এস.জি বরণডালী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী নুরুল ইসলাম, চিংড়া ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ক্বারী শিক্ষক হাফেজ রাহাজ উদ্দিন, বুড়িহাটি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবদুল খালেক ও সহকারী মৌলভী রজব আলী, সাগরদাঁড়ি আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী আবদুল হাকিম, সারুটিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ক্বারী শিক্ষক আবুল কাশেম ও সহকারী মৌলভী মনিরুজ্জামান, বারুইহাটি পাত্রপাড়া সম্মিলিত বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার রেজাউল ইসলাম, মৃর্জাপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার খলিলুর রহমান, বেতীখোলা দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবু তালেব ও সহকারী মৌলভী আবদুল হালিম, কেশবপুর দারুল উলুম মহিলা ফাযিল মাদ্রাসার প্রভাষক এজাহার আলী এবং ত্রিমোহিনী দারুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক আলফাজুর রহমান ও ইবতেদায়ি ক্বারী নাজমুজ্জামান।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে (স্মারক নং-৩৭.০২.০০০০.১০৮.০২৭.০২৭.১৬.৬০৮/১১) উল্লেখিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনীত নাশকতা মামলার এজাহার, চার্জশিট ও গ্রেফতার হয়ে থাকলে তার পুলিশ অগ্রায়নপত্র জরুরি ভিত্তিতে দিতে বলা হয়েছে।

অপর চিঠিতে (স্মারক নং-৩৭.০২.০০০০.১০৮.০২৭.০২৭.১৬.৬২০/১৯) উল্লেখিত শিক্ষকদের মামলার সর্বশেষ অবস্থা কি তার কাগজপত্র, সাময়িক বরখাস্ত থাকায় মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে তাঁদেরকে পুনঃবহাল করা হলো, বরখাস্তকালিন তাঁদেরকে কিভাবে-কি হারে বেতন-ভাতার সরকারি অংশ প্রদান করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁদেরকে কিভাবে- কি হারে বেতন ভাতার সরকারি অংশ প্রদান করা হচ্ছে এ সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্রের মূ্লকপিসহ এক সেট ফটোকপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আগামী সাত দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অধিকাংশ সদস্য আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থক। সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান তাদের বেতন বিলে স্বাক্ষর করে সম্পূর্ণ বেতন-ভাতা পেতে সহযোগিতা করছেন বলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কমিটির কিছু সদস্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও করেছেন।

সরকারি বিধি অনুযায়ী কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হলে বা কোনো শিক্ষক গ্রেফতার হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে হয়। কোনো শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত হলে বা কোনো কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলে তার সরকার প্রদত্ত বেতন-ভাতার অর্ধ অংশ প্রাপ্য হবে। অথচ নাশকতা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকায় মাসের পর মাস প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও ১৫ শিক্ষকের কেউ সাময়িক বরখাস্ত হননি। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে ম্যানেজ করে সরকারি সম্পূর্ণ বেতন-ভাতাও উত্তোলন করে চলেছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ