ঢাকা: সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা। এসময় উভয়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ের অফিস কক্ষে সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অবকাঠামো, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ব্যবসা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, গণমাধ্যম প্রভৃতি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দু’দেশ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের আর্থিক সহযোগিতায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি, রবীন্দ্র ভবন ও তৎসংলগ্ন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি হাজার বছরের প্রাচীন। আমাদের আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উন্নয়ন ও বিকাশে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দল বিভিন্ন সময় ভারত সফর করেছে ও ভারতের সাংস্কৃতিক দল বাংলাদেশ সফর করেছে এবং তা চলমান আছে। সংস্কৃতির এ বিনিময় দু’দেশের জনগণকে পরস্পরের আরও কাছে এনেছে।’
বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিনিময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভারতের কলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যান্য প্রদেশের মধ্যেও তা বিস্তৃত করার ব্যাপারে মন্ত্রী বৈঠকে গুরুত্বারোপ করেন এবং এক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে সংস্কৃতি বিনিময় অপরিহার্য। বাংলাদেশ ও ভারতের সংস্কৃতির মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য বিদ্যমান। এর মাধ্যমে দু’দেশের মৈত্রীর বন্ধন আরও অটুট হচ্ছে।’
শ্রীংলা আরো বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অনেক শিল্পী ভারতে যায়। ভারত থেকেও বাংলাদেশে আসে। কিন্তু বেসরকারিভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে তাদেরকে অনেক সময় দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।’ এটি সহজীকরণের ব্যাপারে তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সভা ও সিম্পোজিয়াম আয়োজন, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা বিনিময়সহ দু’দেশ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করতে পারে বলে ভারতের হাইকমিশনার মন্তব্য করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আক্তারী মমতাজ, অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা আখতার মীনা ও প্রত্নত্তত্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলতাফ হোসেন।