• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন |

তাপস হত্যা মামলায় ২৯ ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

তাপসসিসি নিউজ: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাপস হত্যা মামলায় ২৯ জনের নামে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) প্রস্তুত করা হয়েছে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র তৈরি করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই এর তৈরি করা অভিযোগপত্রে ২৯ জনের সবাই ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। সোমবার চট্টগ্রাম জেলা আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় ৬ পৃষ্ঠার অভিযোগ পত্রটি জমা দেয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে মূল অভিযুক্ত আশরাফুজ্জামান আশাসহ ১৪ জন পলাতক রয়েছেন। বাকিরা জামিনে আছেন।
৩০ জনের জবানবন্দি, ৩২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে অভিযোগপত্রটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান ।
এছাড়া ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ব্যালিস্টিক রিপোর্ট ও বেনাপোল ইমিগ্রেশন অফিস এবং সিআইডি’র আগ্নেয়াস্ত্র বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিয়েছে পিবিআই। পাশাপাশি অভিযুক্তদের স্ব স্ব এলাকার থানার মাধ্যমে তাদের অতীত আচার আচরণ চিহ্নিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে অভিযোগপত্র তৈরিকালে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ময়নাতদন্তে রিপোর্টের ভিত্তিতে দেখা গেছে গুলির আঘাতেই তাপস সরকারের মৃত্যু হয়। ব্যালিস্টিক রিপোর্ট বলছে ৭ দশমিক ৬৮ ক্যালিবার পিস্তলের গুলিতেই তার মৃত্যু হয়। আর এ পিস্তলটি ব্যবহার করেন আশরাফুজ্জামান আশা।
পিবিআই সূত্র জানায়, অভিযোগপত্রে ছাত্রলীগের সাবেক উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশাকে মূল হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ছাত্রলীগ কর্মী রুবেল দে, শাহরিদ শুভ, প্রদীপ চক্রবর্তীকে দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় (হত্যাচেষ্টা) অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে ৫ থেকে ২৮ নম্বর পর্যন্ত অন্য অভিযুক্তদের সাধারণ ধারায় (১৪৩ ও ৩২৩) অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মামলার ২৯ নম্বর আসামি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেনকে হুকুমের আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।
২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে খুন হন সংস্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাপস সরকার। এ ঘটনায় ১৭ ডিসেম্বর হাটহাজারী থানায় হত্যা মামলা করেন তাপসের সহপাঠী হাফিজুল ইসলাম।
এতে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়। যার মামলা নম্বর ১৭ (১২) ১৪। এ মামলায় আশরাফুজ্জামান আশাকে প্রধান আসামি করা হয়।
প্রথমে হাটাহাজারী থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন । পরে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট মামলাটি পিবিআই’তে হস্তান্তর করা হয়। মামলার দায়িত্ব নেয়ার আট মাসের মাথায় এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র তৈরি করলো পিবিআই। হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রুপন বিশ্বাস আসামি থেকে বাদ পড়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ