ঢাকা: বিভিন্ন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সম্প্রতি ঢাকাসহ সারাদেশে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতেই এ অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, গত ৭ দিনে কলাবাগানে বাড়িতে ঢুকে ইউএসএইড কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তনয় মাহবুব হত্যাকাণ্ড, কাশিমপুর কারাগারের সাবেক কারারক্ষী রুস্তম আলীকে হত্যা, গুলি করে বিকাশ এজেন্টকে হত্যার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডিএমপি সদর দফতরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। বৈঠকে পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে যেকোনো মূল্যে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকে নিয়ে আসার নির্দেশনা দেন কমিশনার। একইসঙ্গে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসকবলিত এলাকাকে চিহ্নিত করে নিয়মিত চেকপোস্টের বাইরে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বৈঠকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির একজন ডিসি বলেন, জামিনে মুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও আসামিদের গ্রেফতার ডিএমপির রুটিনওয়ার্ক। তাদের সবসময়ই নজরদারিতে রাখে পুলিশ। তারা যখনই অপরাধপ্রবণ কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তবে তিনি এও বলেন, রাজধানীতে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার ও সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য ৪৯ থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজধানীতে চেকপোস্ট বৃদ্ধিসহ বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও মেসে নজরদারির বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে নানা অপরাধের জন্য আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা গেছে।