আজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর) : শিক্ষক সংকট, শ্রেনী কক্ষ সংকট, অবাকঠামোর অভাব, শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি, বিদ্যালয়ের বার্ষিক আয়ের কোষাগারে শকুনের থাবায় রুগ্ন ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের অবহেলার কারণে ঐতিহ্যবাহি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছে। অথচ এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দাখিল করেও কোন ফলপ্রসু হয়নি।
সূত্রমতে, ১৯৫৮সালে স্থাপিত ওই বিদ্যালয়টি নানান সমস্যায় জর্জরীত। এই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ একের পর এক শিক্ষক নিয়োগ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এছাড়াও বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত সম্পদ ও তার বার্ষিক আয়ের অর্থ আর্থসাত করেছে সমসাময়িক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। ফলে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়টি আলোর মুখ দেখতে পায়নি। এবিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী অভিভাবক শাহ মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই ও সভাপতি ওয়াহেদ আলী মেম্বর যোগসাজস করে বিদ্যালয়ের লাখ লাখ টাকা লোপাট করছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্ম শিক্ষক সংকট রয়েছে। এই পদের নুরুন্নবী নামে একজন শিক্ষকের কাছ থেকে ৬লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েও তাকে অজ্ঞাত কারণে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছেনা। এতে করে শিক্ষার্থীরা ইসলাম ধর্ম ক্লাস থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তিনি আরো জানান, শ্রেনী কক্ষ সংকট, অবকাঠামোর অভাব, অব্যবস্থাপনায় তৈরি করা হয়েছে মেয়েদের কমন রুম। অপরিস্কার বাথরুম ও টয়লেট। এছাড়াও বেশিরভাগ ক্লাস রুমে দরজা জানালা নেই, তার উপর আবার বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রচন্ড গরমে ক্লাস করে। তার উপর ঠিকভাবে ক্লাস না হওয়ার কারণে ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি কমে গেছে। কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয়গুলো নিয়ে একাধিকবার আলাপ আলোচনা করেও কোন কাজ না হওয়ায় আমরা বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দাখিল করেছি। কিন্তু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করার পরেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এসময় ষষ্ট শ্রেনীর শিক্ষার্থী মুরাদ, আকলিমা, কেয়া, লিজা জানায়, এই সালে আমরা নতুন বই পাইনি। তাই ১৪সালের বই দিয়ে ক্লাস করছি। এছাড়াও আমাদের ধর্ম শিক্ষক না থাকায় ওই ক্লাস হয়না। সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সুমাইয়া, সাথী, মিল্লাত জানায়, বিদ্যালয়ের সংকীর্ণ রুমে ফ্যান না থাকায় প্রচন্ড গরমে স্যাররা ১০/১২মিনিট ক্লাস নিয়েই ফিরে যান। অষ্টম ও নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রেজোয়ান, বোরহান, সাদিক, রায়হান জানায়, আমাদের স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট নেই। তবে মেয়েদের জন্য প্রাচীন কালের একটি কমনরুম থাকলেও ছেলেদের জন্য টয়লেটের কোন ব্যবস্থা নেই। দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী কনক শর্মা, নুর আলম, মাসুদ রানা (ক্যাপটেন), পারুল, নাজমিন জানায়, বিদ্যালয়ের একাধিক কক্ষের দরজা জানালা নেই। অনেকদিন আগের স্থাপিত ছাদ ভেঙ্গে মাথায় পড়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়াও ইসলাম ধর্ম ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয়না। স্যারদের সেদিকে কোন নজর নেই। ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই জানান; কলেজ শাখাকে বেশি গরুত্ব দিতে গিয়ে স্কুল শাখা অনেকটা অবহেলায় পড়েছে। তবে ধিরে ধিরে সব ঠিক হয়ে যাবে। শিক্ষক প্রতিনিধি উত্তম কুমার গুপ্ত জানান; শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ নেই। তার কারণ হচ্ছে বর্তমানে শিক্ষকদের সাথে কমিটির সদস্যদের সম্পর্ক ভাল নেই। এছাড়াও নিয়োগের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও ইসলাম ধর্মের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম শহিদুল ইসলাম জানান; আমি ওই বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যা সম্পর্কে জানি। কিন্তু শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সমন্বয়হীনতার অভাবে সেখানে একাধিক সমস্যা রয়েই গেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন; পাঠ্যপুস্তক সংকটের কারণে শিক্ষকরা ২০১৪সালের বই চলতি বছর শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিলেও কোন সমস্যা নেই। তবে তিনি এই সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কোন কথা বলেননি।