সিসি নিউজ: দিনাজপুর টেক্সটাইল ইনষ্টিটিউটের এক ছাত্রীকে ক্লাস রুমে দু’ছাত্র লাঞ্চিত করার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। বিশেষ করে সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও অনলাইন পত্রিকায় এ ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ায় সর্বত্র বইছে আলোচনার ঝড়। কিন্তু ফেসবুক ও অনলাইন ব্যবহৃত ছবি ওই ছাত্রীটির নয়, তা নিয়েও নিন্দা এবং ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে। তবে ঘটনাটি একটি মহল ধামা চাপা দিয়ে ফেলেছে। অন্যদিকে নির্যাতিত ওই ছাত্রী শারীরিক অসুস্থ্য হয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় নিজ বাড়িতে রয়েছে।
ফেসবুক ও অনলাইন পত্রিকায় দিনাজপুর টেক্সটাইল ইনষ্টিটিউটের এক ছাত্রীকে ক্লাস রুমে দু’ছাত্র লাঞ্চিত করার ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ায় সর্বত্র বইছে আলোচনার ঝড়। কিন্তু ফেসবুক ও অনলাইন ব্যবহৃত ছবি ওই ছাত্রী’র নয়,তা নিয়েও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে নিন্দা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুরে গিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে কয়েবজন শিক্ষার্থী’র কথা হয়েছে সেখানে। তাদের মধ্যে আতংক আর ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়েছে। ছাত্র রাজনীতি ওই প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র নেতারা প্রকাশ্য বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে। এমন অভিযোগ অসংখ্য শিক্ষার্থীর।
ইনষ্টিটিউটের ৫ম পর্বের দু’ছাত্র সুলতান মাহমুদ শিহাব এবং ইমরান হোসাইন ২ রা মে সকাল সাড়ে ১০ টায় ২য় পর্বের এক ছাত্রীকে তার ক্লাস রুমে শারিরীক লাঞ্চিত করে। এ সময় ক্লাস থেকে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়। প্রায় ১০ মিনিট ব্যাপী চলে ওই তান্ডব। এ সময় তারা মুঠো ফোনে ওই ছাত্রীর বিবস্ত্র ছবিও ধারন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই ছাত্রীর চিৎকারে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ছুঁটে গিয়ে তাকে রক্ষা করে। নীলফামারী জেলা সদরের ওই ছাত্রী ঘটনার সময় সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। ওই ইনষ্টিটিউটের জুনিয়র ইন্সটেক্টর ছাত্রী’র সম্পর্কিত চাচা নূরে আলম সিদ্দিকী লেবু সেই ঘটনার পর তৎপর হলেও এখন অজ্ঞাত কারণে নিশ্চুপ রয়েছেন। দায়সার গোছের কথা বলছেন।
ঘটনার পর ওই নির্যাতিত ছাত্রী অভিযুক্ত দু’ছাত্রের বিরুদ্ধে ইনষ্টিটিউটের অধ্যক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করে প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু একটি বিশেষ মহলের চাপের মুখে ইনষ্টিটিউট কর্তৃপক্ষ,নির্যাতিত ছাত্রীর অভিভাবক এবং অভিযুক্ত দু’ছাত্রে অভিভাবকদের প্রায় ৩ ঘন্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ঘটনাটি সমঝোতায় পৌছেছে বলে দাবী করেছেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, সমঝোতার পর অভিযুক্ত ছাত্র সুলতান মাহমুদ শিহাবকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জরিতপুর এবং ইমরান হোসাইনকে জামালপুরের দেওয়ারগঞ্জের আকন্দপাড়া গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠারে ভাবমূর্তি রক্ষায় বহিস্কার করা না হলেও অভিযুক্ত দু’ছাত্রের অন্যত্র বদলীর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্যাতিত ওই ছাত্রী শারীকি অসুস্থ্য হয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় নিজ বাড়ি নীলফামারীতে রয়েছে। এ প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে কথা হয়েছে তার পিতা জনাবুল হকের সাথে। তিনিও খুব আতংকে আছেন। বলেছেন, যা হবার তা তো হয়ে গেছে। আমার মেয়ের যাতে আর কোন ক্ষতি না হয় এদিকে লক্ষ্য রেখে নিউজ করবেন। আমার মেয়ে সুস্থ্য হলে পরে আমি আপনাদের সাথে দেখা করবো।
এ ঘটনার পর দিনাজপুর টেক্সটাইল ইনষ্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতংক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। গোয়েন্দার লোকজন এবং সাংবাদিক ছুটোছুটি করছেন সেখানে।