বরিশাল : অবশেষে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ের সংশোধিত ফল প্রকাশ করল বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
আজ শনিবার বিকেলে শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েব সাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফলে প্রায় ১২০০ পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এদের মধ্যে ৯০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দুই পরীক্ষকের অসতর্কতার কারণে ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ে ‘খ’ সেটের নৈর্ব্যক্তিক উত্তরপত্র ‘গ’ সেটের নৈর্ব্যক্তিক উত্তরের স্থলে কম্পিউটারে সেটিং করায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ফল বিপর্যয় হয়েছে। আজ শনিবার সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য দিয়েছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক।
তিনি বলেন, অস্বাভাবিক ফল দেখে তারা প্রথমে সমস্যা চিহ্নিত করেন। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে হিন্দু ধর্মের সকল নৈর্ব্যক্তিক উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়ন করে বিকেলেই বোর্ডের ওয়েবসাইটে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ে প্রায় ১২০০ পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। এদের মধ্যে ৯০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এরফলে বোর্ডে পাসের হার বাড়বে। আপাতত সংশোধিত ফলে স্বস্তিতে শিক্ষার্থীরা। এরপর পাসের হার প্রকাশ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবকরা বলেন, সংশোধিত ফল প্রকাশ করায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা হয়ত তাদের কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে যাবে। যারা ফেল করেছিল, তাদের অনেকে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু অন্য বিষয়ে এ-প্লাস পেয়েও হিন্দু ধর্ম বিষয়ে ফেল করার ক্ষোভে-লজ্জায় ওই দিন আত্মহত্যা করে নগরীর উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সর্বজিৎ ঘোষ হৃদয়। তাকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
ফলাফল অস্বাভাবিক হওয়ায় উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য শনিবার দুপুর পর্যন্ত আড়াই শতাধিক পরীক্ষার্থী আবেদন করেছে। এরা সবাই হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় ফেল করা।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মু. শাহ আলমগীর জানান, ‘হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ে পরীক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ৯ হাজার। এর মধ্যে ‘খ’ সেটের প্রশ্নপত্রের পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় ১২০০।
গত বুধবার প্রকাশিত এসএসসির পরীক্ষার ফলাফলে বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৯.৪১ শতাংশ। কিন্তু হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় অস্বাভাবিক ফল আসে।