সিসি ডেস্ক: চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র সরবরাহের দায়ে রংপুরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাতজন শিক্ষককে পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ-সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সালমা জাহানের সই করা একটি পত্র দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই চিঠি পাওয়ার পর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে নোটিশ হিসেবে তা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় রংপুর শহরের পুলিশ লাইন স্কুল ও কলেজ এবং কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয়। পুলিশ লাইন স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আসন কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজে এবং কালেক্টরেট স্কুলের শিক্ষার্থীদের আসন ছিল পুলিশ লাইন স্কুলে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সালমা জাহানের ১০ এপ্রিল পাঠানো পত্র থেকে জানা গেছে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র সরবরাহ করেন। এ ঘটনায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাতজন শিক্ষক জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে পুলিশ লাইন স্কুল ও কলেজের পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁরা হলেন শাহানারা বেগম, বাদল কুমার চন্দ্র, এ কে এম রবিউল আলম, বিজন কুমার ও জাহাঙ্গীর আলম। কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষক হলেন ফেরদৌসী বেগম ও মনিরা পারভীন। তাঁদের পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশটি ৪ মে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ হোসেন শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে নোটিশ হিসেবে প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছেও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে পুলিশ লাইন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন আকবরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুয়ারা বেগম শিক্ষা বোর্ড কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণায়ের কোনো চিঠি পাননি বলে জানান। তিনি বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এমন অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত আশা করছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালেক্টরেট স্কুল ও কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমাদের ফাঁসানো হয়েছে।’
উৎস: প্রথম আলো