• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন |

ফেঁসে যেতে পারেন ডা. শারমিন

তনুসিসি ডেস্ক: কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক কুমিল্লার ডা. শারমিন সুলতানা শাম্মী ফেঁসে যেতে পারেন। তনু হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তিনিই প্রথম রিপোর্ট করেছিলেন, যাতে তিনি ধর্ষণের আলামত খুঁজে পাননি। কিন্তু পরের তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়, তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। প্রথম রিপোর্টে  হেরফের হওয়ায় কারণে নানা গুঞ্জন ওঠে।
বিষয়টি এখন নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এর পেছনে কোনো চাপ, প্রলোভন বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় ছিল কি-না তাও খুঁজে বের করবে সিআইডি। স্পর্শকাতর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়নাতদন্তে ডা. শারমিনের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে ফৌজদারি অপরাধে তাকে আসামি করা হতে পারে। সিআইডি তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এরই মধ্যে তনুর জামাকাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজনের বীর্যের আলামত পাওয়া গেছে। এরপর থেকে সিআইডি নিশ্চিত হয়, তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল; প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সঠিক ছিল না। তাহলে কেন তাড়াহুড়া করে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল- সে বিষয়টি এখন গুরুত্বসহকারে দেখছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা।
তনু হত্যা মামলার অগ্রগতির ব্যাপারে সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন বলেন, সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে তনু হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তে কোনো আলামত লুকানো হলে সিআরপিসি অনুযায়ী তা অপরাধ। তদন্তে সব বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আবারও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, তনু হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে- সন্দেহভাজন এমন ব্যক্তিদের তালিকা এরই মধ্যে করা হয়েছে। তবে এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়। সব আলামত ও তথ্য-প্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করে কোনো ব্যক্তিকে ‘চূড়ান্ত সন্দেহ’ করার পর সিআইডি ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে। ‘চূড়ান্ত সন্দেহ’ করার পরই ডিএনএ প্রোফাইল মেলাতে আদালতের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা চেয়ে বিভিন্ন অফিস ও দপ্তরে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, তনুর পরিবারের সদস্যরা প্রথম থেকে বলে আসছে, তনুকে সেনানিবাসের ভেতরেই হত্যা করা হয়েছে। জানা গেছে, তনু হত্যার প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনার পর ময়নাতদন্ত ও ধর্ষণের আলামত নির্ণয়কারী সংগঠন মেডিকোলিগ্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানতে কুমিল্লা যান চিকিৎসকরা। সেখানে তারা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলে আসলে বিষয়টি কী হয়েছিল তা জানার চেষ্টা করেছেন। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মেডিকোলিগ্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে বলেছেন, ‘বারবার পরীক্ষা করেও তনুর মাথায় কোনো আঘাতের চিহ্ন তারা পাননি। তাকে ধর্ষণের আলামতও পাওয়া যায়নি।’ হত্যার কারণ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হওয়ার পরও কেন দ্রুত প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি চিকিৎসক। প্রথম দফা ময়নাতদন্তে চিকিৎসক প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তনুর বাম কানের নিচে রক্তের দাগকে ‘মৃত্যুর পর পোকার কামড়’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
ময়নাতদন্ত ও ধর্ষণের আলামত নির্ণয়কারী সংগঠন মেডিকোলিগ্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘কুমিল্লায় গিয়ে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা তাদের ব্যাখা দিয়েছেন। পরে পুলিশের ডিএনএ প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ভিন্ন তথ্য আসায় এ ব্যাপারে কোনো বিশেষজ্ঞ মতামত চাইলে আমরা তা দেব।’
এদিকে তনুর লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে এরই মধ্যে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. কে পি সাহা। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও দেওয়া হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ