সিসি নিউজ: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে মানসিক রোগী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেডে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সেলিম ওসমান বলেন, ঘটনার সময় যখন প্রধান শিক্ষককে আমি বলি- ইসলাম নিয়ে আপনি কটূক্তি করছেন কিনা। তখন তিনি বলেন, আমার মাথা ঠিক ছিল না। কি বলেছি বলতে পারছি না। প্রধান শিক্ষকের এমন কথায় প্রমাণ হয় তিনি একজন মানসিক রোগী। আর একজন মানসিক রোগী কিভাবে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে সেলিম ওসমানের এমন বক্তকে উড়িয়ে দিয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সাংবাদিকদের জানান, সেলিম ওসমান নিজেকে বাঁচাতে অনেক কিছু বলতে পারে। আমি যদি মানসিক রোগী হয়ে থাকি তাহলে তো আমাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো।
শিক্ষক শ্যামল কান্তি আরো বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান আমার কক্ষে আসেন। তখন আমি চেয়ারের হাতলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। উনি (সেলিম ওসমান) ভেতরে প্রবেশ করার পর আমি তাকে সালাম দিয়ে শুধু স্যার বলতে পেরেছিলাম। উনি ভেতরে প্রবেশ করে আমার কোনো কথা না শুনে দুই হাত দিয়ে আমার দুই গালে চারটি থাপ্পড় মারেন। পরে আমাকে বাহিরে এনে বলেন, ‘শালা কান ধর ১০ বার কান ধরে উঠ-বস করবি। আমি কয়েকবার কান ধরে উঠ-বস করার পরেই পড়ে যায়। পরে আমাকে হাত ধরে উঠানোর পর সংসদ সদস্য বলে এই শালা মাফ চা। আমি মাফ চাইলে আমাকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আমাকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, আমি তার কাছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কথা স্বীকার করিনি। এটি সম্পূর্ণ রূপে মিথ্যা কথা। যদি তার (সেলিম ওসমান) কাছে কোনো প্রমাণ থাকে তাহলে তা দেখানো হোক। আমি জীবদ্দশায় কখনো ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করিনি। আর উনি (সেলিম ওসমান) পলিটিক্যাল লিডার। নিজেকে সেভ করার জন্য কত কিছুই বলতে পারেন।
থাপ্পড় মারার বিষয়টি আগে কেন বলা হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তখন আমি ভয়ে বলিনি। তিনি আমাকে বলেছেন আপনি আমাকে সেভ করেন আমিও আপনাকে সেভ করবো। উনি নিজে আমাকে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। আমাকে সেলিম ওসমানের এক লোক প্রলোভন দেখায় বাহিরে পাঠানোর জন্য। সে আমাকে বার বার কল করে বলেছে- যত সুযোগ-সুবিধা চান আপনাকে দেয়া হবে। চিকিৎসার জন্য বাহিরে পাঠানো হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর স্বপদে পুর্নবহালের ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সবাইকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানায়। তবে শুধু সেলিম ওসমান ছাড়া।
এখন আমি সেলিম ওসমান আতঙ্কে আছি। আর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাকে হুমকি দেয়া হতে পারে। থানা প্রশাসন সবই তার হাতে। আমি সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন বোধ করছি। সেলিম ওসমান বরখাস্ত হলেই আমি নিরাপদে থাকবো। আমি উনার বরখাস্ত কামনা করছি।
তদন্ত কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় কমিটির বিষয়ে আমার অনাস্থা আছে। তবে সরকারের তদন্ত কমিটির বিষয়ে আমার আস্থা রয়েছে।