• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

বৃদ্ধ বয়সেও পাচ্ছেনা ভাতা!

Shanti Photoজাহাঙ্গীর আলম, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সদরে  শান্তি রানী বিশ্বাস এখন অশান্তিতে রয়েছেন।  জীবনের সত্তরটি বছর পেরিয়ে গেলেও বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতা  পায়নি । সংবাদকর্মীর কাছে অভিযোগ করেছে- টাকা দিয়েও মিলছে না কোনো ভাতা। সদর ইউনিয়নের কুটিচন্দ্র খানার জেলে পাড়ার পাশে গুচ্ছ গ্রামে ১ নং ব্যারাকের ৭ নং রুমে থাকেন স্বর্গীয় জয়কিষ্ঠ বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী শান্তি রানী বিশ্বাস ।
বিয়ের মাত্র কয়েক বছর পর তার স্বামী অথাৎ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে  মারা যান। শান্তির  কোন  ছেলে মেয়ে নেই, নেই নিকটতম কোন আত্বীয় , পৃথিবীতে তার আপন বলতে কেউ নেই। আগে যখন বয়স কম ছিল তখন মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করতো এবং দিন মজুরের কাজও করতো শান্তি রানী।  এদিকে মাথা গোজার ঠাই নেই , থাকে অন্যোর  বাড়ীতে । বর্তমান সরকার যখন দেশে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা গুলোতে গুচ্ছ গ্রাম(আবাসন) প্রকল্প বাস্তবায়ন করলো তখনেই বিধবা শান্তি রানী বিশ্বাসের ঠাঁই হলো আবাসনের ৭ নং রুমে । বর্তমানে শান্তির বয়স বেশী বলে কেউ তাকে কাজ করতে নেয় না । তবে জীবন-যাপন করতে হলে এবং বেঁচে থাকার জন্যে কিছুতো  করতে হবে শান্তি রানীর। তাই তিনি বাধ্য হয়ে অভাবের কারনে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করেই চলে তার জীবন। এভাবে প্রতিদিন শান্তি ভিক্ষা বৃত্তি করে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত জীবন যাপন করেন। আর প্রতিদিন তো ভিক্ষা ভাল জোঠে না। তবে অভাব  তার নিত্য সঙ্গী । এ যেন দেখার কেউ নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাহে হামার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গিয়াসউদ্দিন বয়স্ক ভাতার জন্য দুই বছর আগে ৫ শত টাকা এবং তিন মাস আগে ১ হাজার  টাকা মোট পনের শত  টাকা অন্যের কাছে ধার দেনা করে দেই। ইউপি সদস্য গিয়াসউদ্দিনের কাছে বয়স্ক ভাতার কথা বললে দমক ছাড়া কিছুই মেলে না শান্তি রানী বিশ্বাসের। শান্তি বলেন. মোর নাম শান্তি কিন্তুু মুই আর শান্তিতে নাই মুই এহন অশান্তিতে আচং। তিনি সমাজের কাছে প্রশ্ন করেন, মেম্বারাতো জনপ্রতিনিধি ওমরা যখন হামার মত গরীব ভিক্ষুক দিন মজুরদের পাশে থাকার কথা কিন্তু তারা থাকেনা । তাহলে বাহে তোমরাই কনতো মুই সারা দিন ভিক্ষা করে কোন রকমে মোর দিন যায়। বাহে মুই যখন মানুষোর কাছে ধার দেনা করে মেম্বারকে টাকা দিনু মোর বয়স্ক ভাতার জন্য, বাহে মোর টাকাও নাই মোর বয়স্ক ভাতায়ও নাই এভাবে কান্নায় জড়িত কন্ঠে প্রতিবেদক কে জানান বিধবা শান্তি রানী বিশ্বাস। ইউপি সদস্য গিয়াসউদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন বরাদ্দ ১থেকে ২টি  আমার ওয়ার্ডে আসে কাকে দেই আর কাকে না দেই পরবর্তী বরাদ্দ আসলে আমি চেষ্টা করব।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মইনুল হক জানান, যারা এভাবে গরীব দুঃখী মানুষের কাছে ভাতা দেওয়ার নাম করে টাকা নেয় তাদেরকে আমি ঘৃনা করি । তবে যতটুক জানি শান্তি রানী বিশ্বাস ভাতা পাওয়ার যোগ্য , সামনে বরাদ্দ আসলে তাকে  বয়স্ক অথবা বিধবা ভাতা  দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ