আজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর): বদরগঞ্জ পৌর শহর থেকে বেশ খানিকটা দুরে অজো পাড়া গাঁয়ে অবস্থিত গেদা শিকারীরপাড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলার অবহেলিত ইউনিয়ন কালুপাড়ার শিক্ষিত বেকার সাজ্জাদ হোসেন ২০১০ সালে আপ্রাণ চেষ্টা করে স্থাপন করেন ওই বিদ্যালয়টি। এরপর তিনি ৩জন শিক্ষিকাকে সাথে নিয়ে জড়িয়ে পড়েন শিক্ষকতা নামক এক মহান পেশায়। সেই থেকে তিনি মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেকে বিলিয়ে দেন মানুষের মাঝে। অল্প দিনের মধ্যেই তার বিদ্যালয়টির সুনাম ছড়িয়ে পড়লে সেখানে একে একে ভর্তি হয় ১৫১জন শিক্ষার্থী। এনিয়ে তার স্বর্ণালী সময়গুলো বেশ ভালই কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু গত ১৭মে গভীর রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙ্গে গেছে তার কষ্টে গড়া বিদ্যালয়টি। সেইসাথে ভেঙ্গে গেছে তার ৬বছরের লালিত স্বপ্ন। তবে ঝড়ে বিদ্যালয়টি ভেঙ্গে গেলেও মন ভেঙ্গে যায়নি তার। আবারো একটি নতুন স্বপ্নের আশায় তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি।
এবিষয়ে মঙ্গলবার ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন জানান, ২০০১সালে বিএসএস পাস করে কোন চাকরি না পেয়ে ঘরে বেকার অবস্থায় বসেছিলাম। হঠাৎ একদিন বিদ্যালয় খোলার চিন্তা মাথায় চলে আসে। অবশেষে গেদা শিকারীর পাড়ার সমাজ সেবক আক্কাস আলী ৩৩শতাংশ জমি স্কুলের জন্য দান করলে ওই জমিতে তে বিদ্যালয়টি স্থাপন করি। তারপর থেকে সরকারী করণের অপেক্ষায় আছি গত ৬বছর ধরে। কিন্তু গত মঙ্গলবার (১৭ম) গভীর রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়টি স¤পূর্ণ ভেঙ্গে চুরে উড়ে যায়। এতে করে অবকাঠামোসহ প্রায় ২লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অর্থাভাবে আমি এখন পুনরায় বিদ্যালয়টি মেরামত করতে পারছিনা। তাই আমার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এপ্রসঙ্গে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রানু পারভীন জানায়, ঝড়ে বিদ্যালয় ভেঙ্গে যাওয়ার পর আমাদের আর স্কুলে যাওয়া হচ্ছেনা। তাই এখন খেলাধুলা করে দিন কাটছে আমাদের। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম ও কাজলী বানু জানায়, বিদ্যালয় ভেঙ্গেছে কিন্তু খেলার মাঠতো আছে। তাই প্রতিদিন মাঠে খেলা করতে আসি। এসময় এলাকাবাসী আমীর উদ্দিন জানান, আমাদের গ্রামের আশেপাশে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। গ্রামের পার্শ্বে তিস্তা নদী পার হয়ে ছেলে মেয়ে মেয়েদেরকে অনেক দুরে স্কুলে যেতে হত। কিন্তু গেদা শিকারীরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপনের পর শিক্ষার্থীরা বাড়ীর পাশে একটি ভাল স্কুল পেয়েছিল। ঝড়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় আবারো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহম্মেদ মুঠো ফোনে বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়টি ভেঙ্গে যাওয়ার খবর শুনে প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আবেদা গুলশান বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের আবেদনের ভিত্তিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। অনুদান পেলে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।