• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন |

ট্রাম্পের মনোনয়ন নিশ্চিত

ট্র্যাম্পআন্তর্জাতিক ডেস্ক : রিপাবলিকান দল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ডেলিগেট নিশ্চিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জুলাইয়ে পার্টি কনভেনশনে তার মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে। রিপাকলিকান দল থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু ডেলিগেট বার্তা সংস্থা এপি-কে জানিয়েছে তারা জুলাইয়ের কনভেনশনে ট্রাম্পকে সমর্থন করবে।

মনোনয়নের জন্য ট্রাম্পের ১২৩৭ ডেলিগেটের প্রয়োজন ছিল। এই ডেলিগেটদের সমর্থন পাওয়ার পর এপি-র হিসেব অনুযায়ী ট্রাম্পকে সমর্থন দেয়া ডেলিগেটের সংখ্যা এখন ১২৩৮।

সংবাদমাধ্যম বলছে, অভিবাসীবিরোধী, সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী নানা বক্তব্য দিয়েও এ ব্যবসায়ী-রাজনীতিকের প্রার্থিতা পাওয়ার লড়াইয়ে প্রয়োজনীয় ডেলিগেট ভোটপ্রাপ্তি তাকে হোয়াইট হাউসের পথে আরো এগিয়ে দিল।

রিপাবলিকান দল প্রেসিডেন্ট পদে তাদের চূড়ান্ত প্রার্থীর ঘোষণা দেবে জুলাই মাসে ক্লিভিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় জাতীয় কনভেনশন থেকে। কনভেনশনের আগেই ট্রাম্প যদি প্রয়োজনীয়সংখ্যক প্রতিনিধির সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারতেন, তবে তাকে শঙ্কার মধ্যে থাকতে হতো। দলীয় কনভেনশনে প্রতিনিধিরা অন্য কাউকে সমর্থন দিলে কিছুই করার থাকত না তার।

রিপাবলিকান দল থেকে এবার প্রার্থী হওয়ার জন্য লড়াই করে ১৬ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। নিউ ইয়র্কের বিরাট ব্যবসীয় ট্রাম্পের দোর্দ- প্রতাপের মুখে ১৫ জনই প্রার্থিতার লড়াই থেকে বসে গেছেন। দলে তিনিই এখন একমাত্র সম্ভাব্য প্রার্থী। তাকে মোকাবিলা করার মতো দলীয় নির্বাচনে আর কেউ নেই। ফলে এখনো যেসব রাজ্যে প্রাইমারি ও ককাস বাকি রয়েছে, সেখানে ট্রাম্প সহজ জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৭ জুন অনুষ্ঠেয় পাঁচ রাজ্যের প্রাইমারিতে জয় পাবেন ট্রাম্প- বলতে গেলে এটি এখন সময়ের ব্যাপার। এ পাঁচ রাজ্যে রয়েছে ৩০৩ প্রতিনিধি। ট্রাম্প যদি এসব প্রতিনিধির সমর্থন পেয়ে যান, তাহলে তিনি হবেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং তিনিই পাবেন মনোনয়ন।

প্রার্থী বাছাই পর্বে বিভিন্ন রাজ্যে জিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা যেসব প্রতিনিধির সমর্থন পেয়ে থাকেন, তাকে বলা হয় প্রতিশ্রুত প্রতিনিধি। দলের জাতীয় কনভেশনের দিন এসব প্রতিনিধি অন্য কাউকে ভোট দিতে পারবেন না। আর প্রতিটি রাজ্যে দলের নেতৃত্ব পর্যায়ের কিছু ভোটার আছেন, যারা কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য নন। জাতীয় কনভেশনের দিন যেকোনো পছন্দের মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ভোট দিতে পারেন তারা। এদের বলা হয় অপ্রতিশ্রুত ভোটার। এপি বলছে, তারা এমন কিছু অপ্রতিশ্রুত ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছেন, যারা স্থির করেছেন জাতীয় কনভেনশনে তারা ট্রাম্পকেই ভোট দেবেন। এ থেকে ট্রাম্পের মনোনয়ন পাওয়া ‘নিশ্চিত’ বলা হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কখনো রাজনৈতিক কোনো পদে না থেকেও ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হচ্ছেন ট্রাম্প। তার প্রচারিত পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ও বহির্বিশ্বে হাসিঠাট্টা হয়ে থাকে। কিন্তু কিছুতেই পিছপা হচ্ছেন না তিনি। তা ছাড়া দেশের মধ্যে তাকে অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাকে। নিউ মেক্সিকোতে নির্বাচনী প্রচারে গেলে তার সমাবেশকে ঘিরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর আগেও এমন ঘটনা হয়েছে। তবে ট্রাম্প তার অবস্থানে অবিচল। যদিও প্রেসিডেন্ট হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের ঢুকতে দেবেন না বলে ঘোষণা দেন, তা থেকে কিছুটা সরে এসেছেন।

সাম্প্রতিক কিছু জরিপে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে গেছেন ট্রাম্প। ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের ভাগ্যে কী হয়, তা সময়ই বলে দেবে।

সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ