ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটী ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপি ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে কারচুপির স্বপক্ষে কেন্দ্রে পড়ে থাকা ব্যালট পেপারসহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন মিজানুর রহমান মিনা নামে এক মেম্বর প্রার্থী। তিনি মধুহাটী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি বলে দাবী করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান,
গত ২৮ মে মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে মধুহাটী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার এ এইচ এম হুমায়ুন কবির তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো রবিউল ইসলামের (তালা মার্কা) পক্ষ নিয়ে কাজ করেছেন।
এ জন্য ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসার একবার ভোট গণনা করে তড়িঘড়ি করে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন।
এতে বেসরকারিভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রবিউলকে ২ ভোট বেশি দেখিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় সন্দেহ থাকায় কেন্দ্রে নিয়োজিত মিজানুর রহমান মিনরা পোলিং এজেন্ট মো. আলতাফ হোসেন আরেকবার ভোট গণনা করার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারকে অনুরোধ জানান। কিন্তু প্রিজাইডিং অফিসার তাতে কর্ণপাত করেননি।
এ ছাড়া ভোট গণণা শেষে বলা হয় মোট ৮০ টি ভোট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর (তালা মার্কা) ১৯ টি ও মিজানুর রহমান মিনার (ভ্যানগাড়ি মার্কা) ৬১টি বাতিল ভোট রয়েছে। ভোট গণনাকালে প্রিজাইডিং অফিসার মেম্বর প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনার পোলিং এজেন্টকে বাতিল ভোট দেখাননি। বাতিল ভোট দেখানোর জন্য পোলিং এজেন্ট অনুরোধ জানালে প্রিজাইডিং অফিসার দেখানোর আশ্বাস দিয়েও পরে আর দেখাননি।
এ ছাড়া ভোট গণনার আগেই প্রিজাইডিং অফিসার কৌশলে রেজাল্ট শিটে মিজানুর রহমান মিনার পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নিয়ে নেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়,
ভোট গণনার ধরণ ও বাতিল ভোট নিয়ে প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনার পোলিং এজেন্ট আপত্তি দিলেও প্রিজাইডিং অফিসার তা আমলে নেন নি। প্রিজাইডিং অফিসার ঠিকমতো বৈধ ব্যালট পেপারও সংগ্রহ করেননি বলে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। যে রুমে ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল সেখানে চেয়ারম্যান ও মেম্বর প্রার্থীদের দুইটি ব্যালট পেপার পড়ে ছিল। সকালে তা কুড়িয়ে পাওয়া যায়।
সাংবাদিক সম্মেলনে কুড়িয়ে পাওয়া দুইটি ব্যালট পেপারের ফটো কপি দেখানো হয়। মেম্বর প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনা, জানান, বাতিল ভোটের মধ্যে আমার ভাল ভোট আছে। পুনঃগননা করলে আমিই জয়ী হবো। তিনি মধুহাটী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গণনা ও বাতিল ভোট ভাল ভাবে দেখার আহ্বান জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আলতাফ হোসেন, সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আসাদুল ইসলাম, মধুহাটী গ্রামের হাসেম আলী ও শ্যামনগর গ্রামের কামাল হোসেনসহ মেম্বর প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পানিতে ডুবে জিম (২) নামের এক কন্যা শিশু মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের দামুকদিয়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের আশরাফুল শেখের ছোট মেয়ে।
জানা গেছে, দামুকদিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি আশরাফুলের বাড়ির পার্শ্বে প্রতিবেশীরা মাটি উঠানোর জন্য একটি বড় গর্ত খোড়ে। সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে গর্তটি ভরে যায়। বুধবার সকালে আশরাফুলের শিশু কন্যা জিম খেলতে খেলতে ওই গর্বের পানিতে পড়ে ডুবে যায়। অনেক খোজাখুজির এক পর্যায়ে দুপুরে শিশুটিকে গর্তের পানিতে ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষনা করেন।
শৈলকুপা থানার ওসি মহিবুল ইসলাম ঘটনার স্বত্যতা স্বীকার করেন।
ঝিনাইদহে ক্লাস বন্ধ করে ইউপি চেয়ারম্যানকে সর্ম্বধনা
স্কুলের ক্লাস বন্ধ করে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হিরণকে সংবর্ধনা দিয়েছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার পেড়াহাটি ইউনিয়নের হীরাডাঙ্গা স্কুল মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুলের ক্লাস বন্ধ করে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অুনষ্ঠানে চেয়ারম্যানকে সোনার নৌকা দিয়ে সংবর্ধনা দেয় এলাকাবাসি।
পঞ্চম বারের মত ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করায় শহিদুল ইসলাম হিরণ বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা বড়ই কঠিন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, আমি চাই এই এলাকার মানুষ সামাজিক ভাবে একাতাবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ এবং দুর্নীতি রুখে দিতে হবে। হীরাডাঙ্গা গ্রামের আনছার বিশ^াসের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, মনিরুল ইসলাম, সাহেব আলী, ফিরোজ আহমেদ, আব্দুল গণি মাষ্টার ও উজ¦ল বিশ^াস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এলাকাবাসির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ক্লাসের শিক্ষার্থীরা কেন উপস্থিত ছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে আয়োজকরা কোন উত্তর দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন জানান, ক্লাস বন্ধ করে স্কুলে সংবর্ধনার অনুষ্ঠান করা ঠিক হয়নি।
ঝিনাইদহে পানি উন্নয়ন বোর্ডে খাল খননে দূর্নীতি কর্মকর্তাই যখন ঠিকাদার
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শাখা কর্মকর্তা (এসও) কামাল হোসেন আখন্দ নিজেই ঠিকাদার সেজে কাজ করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, কামাল আখন্দ খাল খননসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ নাম মাত্র করে বিল তুলে নিচ্ছেন।
সম্প্রতি হরিণাকুন্ডু পানি উন্নয়ন বোর্ডে একজন এসডি দায়িত্ব গ্রহনের পর এসও কামালের দুর্নীতি ধরা পড়েছে। এসডি মতিয়ার রহমান কামাল আখন্দকে সঠিক ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ঠিকাদার এবং বেশ কিছু সাধরণ মানুষের কাছ থেকে কাজ দেওয়া বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এসও কামাল। বিষয়টি ধামা চাপা দিতে কামাল আখন্দ নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত। জানা গেছে হরিণাকুন্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের ভবানীপুর ও লতিডাঙ্গা অভিমুখে বয়ে যাওয়া টি-১ (এস-২) সেচ খালটির ২.৫ কিলোমিটার খননের জন্য ওয়াপদা কর্তৃপক্ষ ১১ লাখ টাকার ই-টেন্ডার করে। টেন্ডারে খুলনার আমিন এন্ড কোং নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি কাজ পাই।
কিন্তু দূর্নীতিবাজ এস ও কামাল আখন্দ ঠিকাদারের নিকট থেকে ৪ লাখ টাকায় কাজটি কিনে নিজেই করছেন। কাজটি সঠিক ও যথাযথ ভাবে সম্পন্ন করা হয়নি। কাজ না করেই তিনি বিল উত্তোলনের অপচেষ্টা করেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এস ডি ই) মতিয়ার রহমান সরজমিনে কাজটি তদন্ত করে বিল না দেওয়ার ঘোষনা দিলে বিপাকে পড়েন দূর্ণীতিগ্রস্থ এস ও কামাল আখন্দ।
এসডিই মতিয়ার রহমান নিজে সরজমিনে কাজের মান পরিদর্শনে উক্ত এলাকায় গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ্য করেন। এসময় তিনি ঠিকাদারকে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শ দেন। অন্যথায় কোন ক্রমেই উক্ত কাজের বিল দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেন।
এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলমসহ স্থানীয় ব্যাক্তি যথাযথ ভাবে কাজটি সম্পাদনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। এদিকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পর খালটির দুপাড়ে লাগানো বনজ ও ফলদ ও গাছ কেটে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করেন। এসও কামাল আখন্দ বিভিন্ন ঠিকাদার ও বেশ কিছু মানুষের কাছ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডেরকাজ দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
হরিণাকুন্ডু উপজেলার চটকাবাড়ীয়া আন্দুলিয়া এস-১ খালের ব্রীজে একই কাজ দুইটি টেন্ডারের মাধ্যমে দুই জন ঠিকাদারকে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দূর্ণীতিবাজ এস ও কামাল আখন্দের বিরুদ্ধে।
এছাড়াও এস-১ এর টি-২ খালের কাজ না করে বিল উত্তোলনসহ নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর ওয়াহিদুজ্জামান বলেন তিনি, ইতিমধ্যেই ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কথা শুনেছেন। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান। জানতে চাইলে এস ও কামাল আখন্দ বলেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো সঠিক নয়।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী(এসডিই) মতিয়ার রহমান জানান, সরেজমিনে তদন্ত করে দুর্নীতির প্রমান পাওয়া গেছে। তাকে সতর্ক করে কাজগুলো ভাল মানের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।